অধিনায়কদের মিলন মেলা

নিউজ ডেস্ক:   আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘ক্যাপ্টেনস মিডিয়া ডে’। কিন্তু লন্ডনের ফিল্ম শেডের অনুষ্ঠানটি কেবল অধিনায়কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না, পরিণত হয়ে উঠল আইসিসি বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে দেওয়ার মঞ্চে। প্রশ্নোত্তর, আড্ডা আর হাসিঠাট্টায় ভরপুর জমকালো এই আয়োজনে দশ অধিনায়ক শুনিয়ে গেলেন নিজ নিজ দেশের সম্ভাবনার কথা, প্রত্যয় জানিয়ে গেলেন সাফল্যের, আর আশ্বাস দিয়ে গেলেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা উপহার দেওয়ার। ৪৮ ম্যাচের যে ক্রিকেট আয়োজন শুরু হতে যাচ্ছে ৩০ মে, ওভালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ওয়ার্মআপ ম্যাচ দিয়ে মাঠের ক্রিকেট শুরু হতে যাচ্ছে আজ। তার আগে বৃহস্পতিবার লন্ডনের নিউইংটন রোডের ফিল্ম শেডে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিনায়কদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিসি। মার্ক চ্যাপম্যানের উপস্থাপনায় দশ অধিনায়কের কথায় উঠে আসে বিশ্বকাপের নানান প্রসঙ্গ। কার চোখে কে ফেভারিট, সর্বোচ্চ রান এবার কত হতে পারে, কোন বিষয়টি ব্যবধান গড়ে দেবে, দলের মূল শক্তি কী- এ ধরনের গতানুগতিক প্রশ্নের পাশাপাশি ‘সুযোগ থাকলে প্রতিপক্ষের কোন খেলোয়াড়কে দলে নিতেন’ ধরনের প্রশ্নের মুখেও পড়েন তারা।

শুরুতেই জিজ্ঞেস করা হয় এবারের আসরের ফেভারিট কে? প্রথম উত্তরদাতা ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ। বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে রাখেন স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে। পরে বাকিদের কথায়ও উঠে আসে একই মত। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এখানে কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে আছে। বিশ্বের সেরা দশটি দল এখানে খেলতে নামছে। এবারের আসরে অসাধারণ পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট দেখতে পারব আমরা।’

বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সিনিয়র-জুনিয়রের সমন্বয়ে দারুণ একটি স্কোয়াড আছে উল্লেখ করে বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেটা নিজেদের দিনে যে কেউ যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। শুরুটা ভালো করতে পারলে আমরাও দৌড়ে থাকব। ভালো করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তবে শুরুর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’ ফেভারিট আলোচনা এবং বিশ্বকাপ সম্ভাবনার পাশাপাশি দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। এ ছাড়া ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে ১৬ জুনের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকেন্দ্রিক একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

সুযোগ থাকলে প্রতিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড়কে নিজের দলে নিতেন- এমন এক মজার প্রশ্নে মাশরাফি বলেন কোহলির কথা। এ ছাড়া পাকিস্তান অধিনায়ক ইংল্যান্ডের জশ বাটলারকে, অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদাকে, ভারত অধিনায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিসকে, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ ও আফগানিস্তানের রশিদ খানকে, শ্রীলংকার অধিনায়ক ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসকে এবং নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক আফগানিস্তানের রশিদ খানকে নেওয়ার আগ্রহ দেখান।

ইংল্যান্ডের মরগান, উইন্ডিজের জেসন হোল্ডার ও আফগানিস্তানের গুলবাদিন নাইব অবশ্য নির্দিষ্ট কারও নাম বলতে চাননি। নিজ নিজ দল নিয়েই তারা খুশি। নাইব অবশ্য প্রতিপক্ষ অনুযায়ী পছন্দ বাছাই করতে চেয়েছেন। তার এ উত্তরে হাসির রোল ওঠে সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে। লংকান অধিনায়ক করুনারত্নে শুরুর দিকে কথা বলছিলেন ধীরে, তার পাশে বসা কেন উইলিয়ামসন তখন কানের কাছে মুখ নিয়ে শোনার ভান করে পরিবেশ হালকা করে তোলেন।

কেবল হাসিঠাট্টা নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন অধিনায়করা। সব অধিনায়ক দুটি বিষয়ে একমত; এবারের আসর হতে যাচ্ছে স্মরণকালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং বোলিংই পার্থক্য গড়ে দেবে। দর্শকদের আশ্বাস দিয়েছেন তারা উপভোগ্য এক ক্রিকেট বিশ্বকাপের।