বিজেপিবিরোধী জোট গঠনে জোর চেষ্টা

নিউজ ডেস্ক :    ভারতের লোকসভা নির্বাচনের এগজিট পোল প্রকাশের পরদিন সকালেই কলকাতায় হাজির হয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এগজিট পোলের হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনে অনায়াসে জয় পেতে চলেছে বিজেপি। নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে থেকেই বিজেপিকে থামাতে সচেষ্ট হয়েছেন নাইডু।

গত তিনদিন দফায় দফায় রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মায়াবতী ও অখিলেশের সঙ্গে দেখা করেছেন চন্দ্রবাবু। এরপর মমতার সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি।

সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের যে ফল দেখানো হয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই বলে বৈঠকে চন্দ্রবাবুকে জানিয়েছেন মমতা। অন্ধ্রপ্রদেশে তেলুগু দেশমের যে ফল দেখানো হয়েছে তা নিয়ে একই মত নাইডুর।

কলকাতায় তিনি বলেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নয়াদিল্লিতে আসতে বলেছি নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার জন্য। বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিরোধী দলগুলি ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করবে।

শেষ ধাপের ভোটগ্রহণের পরই এগজিট পোল জানিয়ে দেয়, বিজেপিই আবার মসনদে বসছে। ব্যবধানও হবে বিরাট। অনায়াসেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা।

এগজিট পোলের হিসাব অনুযায়ী, অন্ধপ্রদেশে চন্দ্রবাবুর প্রতিপক্ষ জগন্মোহন রেড্ডির দল ২৫টির মধ্যে ১৫টি আসন পাবে। চন্দ্রবাবুর দল পাবে মাত্র ১০টি।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রবাবু দু’জনেই এগজিট পোলের হিসাবকে নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে লখনউয়ে মায়াবতীর সঙ্গে বৈঠক করেন অখিলেশ যাদব। অখিলেশের সঙ্গেও কথা হয়েছে মমতার।

সূত্রের খবর, অখিলেশ তাকে জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে এসপি-বিএসপি জোট কোনও অবস্থাতেই ৫০টি আসনের কম পাচ্ছে না। মায়াবতীর সঙ্গে আসন ধরে ধরে পর্যালোচনা করেছেন। উভয়েরই একই মত। যার ফলে গোবলয়ের সবচেয়ে বড় রাজ্যে বিজেপির আসন সংখ্যা নেমে যাবে ৩০-এর নিচে। যদি তাই হয় তা হলে কোনও অবস্থাতেই কেন্দ্রে সরকার গড়ার মতো অবস্থায় আসতে পারবে না বিজেপি।

মমতাকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথও জানিয়েছেন, তার রাজ্যে বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলের সঙ্গে প্রকৃত ফল একেবারেই মিলবে না। প্রকৃত ফলের সময়ে যাতে বিরোধী জোটে কোনো গরমিল না হয় সেজন্য বুধবার ২১টি বিরোধী দল একযোগে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবে।

কংগ্রেস মনে করছে, বৃহস্পতিবার প্রকৃত ফল প্রকাশের পরে বিজেপি যদি সরকার গড়ার কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁছে যায় তা হলে নবীন, জগন, কেসিআর-এর মতো অনেকেই তাদের দিকে ভিড়তে পারেন।

এমন সব সম্ভাবনা নিয়েই এখন তোলপাড় চলছে বিরোধী শিবিরে। একটাই লক্ষ্য, মোদী-শাহ জুটিকে ফের ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া। এখন কার ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে তা দেখার বিষয়।