বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে সরকার নীরব দর্শক

সুমন দত্ত: বাংলাদেশে বিশেষ বিশেষ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয় সরকার। বাকী সময়ে সংখ্যালঘুরা থাকে সুরক্ষাহীন। এতে সংখ্যালঘুদের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন হত্যা অন্য যেকোনো সময়ের চাইতে বেড়ে গেছে। প্রশাসনের নীরবতা এজন্য দায়ী। সাম্প্রদায়িক অপরাধ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিলেও তার বাস্তবায়ন পুরো বছর দেখা যায় না। দুর্গাপূজা ও ভোট এলেই হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে আগ্রহ দেখায় সরকার। আর অন্য সময়ে নীরব দর্শক হয়ে থাকে সরকার প্রশাসন। ১৯ মে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনের পক্ষে আরো বক্তব্য রাখেন নির্মল রোজারিওসহ অন্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যালঘু নির্যাতনের তথ্য উপাত্ত পড়ে শোনানো হয়। এতে বলা হয় গত ২০১৮ সালে সারাদেশে যে হারে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নির্যাতন হত্যাসহ যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, চলতি বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সালে প্রথম ৪ মাসেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। জেলের ভেতর পলাশ রায় নামে একজন আইনজীবীকে কীভাবে হত্যা করা যায় সেটা সাম্প্রতিক নজিরবিহীন। ঐতিহাসিক জেল হত্যার ঘটনার পর এই ঘটনা ঘটল। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে হুমকি দিয়ে ফরিদপুর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এর বিচার সরকারকে করতে হবে। তিনি বলেন, যারা প্রবীর সিকদারের ওপর হামলা করেছে, তাদের নাম পরিচয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হোক। মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়িতে কারা অগ্নিসংযোগ করল সেই বিচার সরকারকে করতে হবে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ২০১৯ সালে জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার মধ্যে হত্যা ২৩, হত্যা চেষ্টা ১০, হত্যার হুমকি পেয়েছে ১৭ জন, শারীরিকভাবে আক্রান্ত ১৮৮ জন, ব্যবসা বাণিজ্য ও বাড়িঘর লুটতরাজ ঘটনা ৩১টি, চাঁদার দাবি ৭টি, বাড়িঘর জমি জমা থেকে উচ্ছেদ ১৬২ জন, জবর দখলের প্রচেষ্টা ৩৮, দেশ ত্যাগের হুমকি ১৭ জন, আক্রান্ত মঠ মন্দির ২৯টি, জোর জবরদখল ধর্মস্থানের সংখ্যা ৬টি,বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ৪৩টি, গণধর্ষণের ঘটনা ৫টি, ধর্ষণের ঘটনা ৭টি, যৌন হয়রানির সংখ্যা ১০টি, ধর্ষণ ও উত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা ৩জন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ঘটনা ১টি, ধর্মান্তরিত হয়েছে ১০৪ জন,হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে ৫টি। অনুরূপ অন্যান্য ঘটনা আরও ঘটেছে ২০টি। প্রতারণা করে গরুর মাংস খাইয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা ১টি।

বলা হয় সরকারের ভেতর সাম্প্রদায়িক শক্তি ঢুকে গেছে। এর ফলে তারা সরকারে থেকে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে। সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর জঙ্গি হামলার পরিবেশ তৈরিতে লিপ্ত তারা। উদাহরণ হিসেবে সরকার দলের সংসদ সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের হাসিবুর রহমান স্বপনের অর্পিত সম্পত্তি মামলায় স্বাক্ষর জাল করে ৩৫ শতক জমি আত্মসাৎ করায় আদালতের দায়েরকৃত মামলার কথা বলা হয়।

পঞ্চগড় কারাগারে আইনজীবী পলাশ রায়কে মিথ্যা মামলায় আটক রেখে তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়। এ ধরনের ঘটনা ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কারাগারে ঘটেছিল। মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর আবার হামলা করা হয়েছে ওই বাড়িতে অথচ পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে পারে না।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, শাহারিয়ার কবির ও অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের ওপর হত্যার হুমকি দাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম