এসডিজি অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরী

????????????????????????????????????

নিউজ ডেস্ক:    ১১ মে, শনিবার, ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সভা কক্ষে সকাল ১১টায় “ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব”শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, এসডিজি অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা জরুরী; শিশুদের রক্ষা করতে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন; প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালে তামাকমুক্ত করতে এসডিজির ২০৩০ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। অনুষ্ঠানটির আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত¡ এন্ড গবেষণা এর প্রধান অধ্যাপক ড: সোহেল রেজা চৌধুরী, ভয়েস এর হেড অব প্রোগ্রাম আজমল হোসেন, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স এর গ্রান্ডস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিঞাঁ, নাটাবের নির্বাহী পরিচালক মো: কামাল উদ্দিন, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির খন্দকার রিয়াজ , বাংলা ট্রিবিউন এর বিজনেস ইন চার্জ শফিকুল ইসলাম, নাগরিক টেলিভিশনের চিফ রির্পোটার শাহনাজ শারমিন, জাতীয় তামাক বিরোধী প্লাটফর্মের সমন্বয়কারী ডা: মাহফুজুর রহমান ভূঞাঁ ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, সুপ্র, টিসিআরসি সহ তামাক বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ ও স্বাস্থ্য সেক্টরের বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মীগণ। অনুষ্ঠানের সমাপনি বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের হেড অব প্রোগ্রাম জি এফ হামীম।

উল্লেখ্য, এসডিজি’র যে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি প্রতিশ্রুতিপুরণের কথা বলা হয়েছে তার সবগুলোই তামাকের দ্বারা ব্যাহত হচ্ছে। যেমন- লক্ষ্যমাত্রা ১ (দারিদ্র বিমোচন), কিন্তু তামাক ব্যবহার ও তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয়ের কারণে দারিদ্র পরিবার আরো দরিদ্র হয়ে পড়ছে। এভাবে চললে লক্ষ্যমাত্রা ১ পূরণ অসম্ভব। লক্ষ্যমাত্রা ২ (খাদ্য নিরাপত্ত ও টেকসই কৃষি), ফসলি জমিতে দিন দিন যেভাবে তামাক চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। লক্ষমাত্রা ৪ ও ৫ (মানসম্মত শিক্ষা ও সমতা), তামাক উৎপাদন ও প্রস্তুতকরণের সাথে বেশির ভাগ শিশুরা জড়িত। তামাক কোম্পানীগুলোতে গেলে দেখতে পাবেন পুরুষের তুলনায় শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশি। শিশুরা তাদের স্কুল বাদ দিয়ে এ কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাচ্ছে না শিক্ষা লাভের সুযোগ।

আর পরোক্ষ ধূমপানে নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এই বিপুল বৈষম্য টিকিয়ে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এছাড়াও তামাক ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষম মানুষের বিরাট অংশ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের শিকার হন যা দেশের (লক্ষ্যমাত্রা ৮) দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে। এভাবে প্রায় সবগুলোই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যাহত করছে এই তামাক। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে এফসিটিসি বাস্তবায়ন অপরিহার্য। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের আগেই বাংলাদেশ তামাকমুক্ত হবে এমন ঘোষনা দিয়েছেন।