ফণীর তাণ্ডব: সারাদেশে ২৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

নিউজ ডেস্ক:    ঘূর্ণিঝড় ফণীতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ২৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ফণীর প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি উপচে হাওর ও উপকূলে প্রায় শতাধিক বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৮৩২ একর জমির ফসল। গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু মারা গেছে প্রায় তিন শতাধিক।

এদিকে চলতি মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে আরও দুটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে ‘বায়ু’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল শক্তিশালী হতে পারে।

ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠ রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সহায়তা করার জন্য বিমানবাহিনী হেলিকপ্টারে উপকূলীয় এলাকায় জরিপ চালাচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় ফণীতে সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নড়াইল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, যশোর, মাদারীপুর, কক্সবাজার, ঝালকাঠি এলাকার ঘরবাড়ি ও ফসল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফণীর আঘাতের আগে এসব এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়।

ভারতের ওড়িষ্যায় প্রথমে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টি গত শনিবার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করে। এরপর বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে সাধারণ ঝড়ে পরিণত হয় ফণী। তার পরও উপড়ে দিয়ে যায় বহু কাঁচা ঘর, অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফণীর কারণে মারাও গেছেন কয়েকজন।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেছেন, বৃষ্টি না হলে আগামী জুন পর্যন্ত গরম অব্যাহত থাকতে পারে। এরই মধ্যে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল, সৈয়দপুর ও দিনাজপুরেও বইছে তাপপ্রবাহ।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মোংলায় ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।