বিএনপি এমপিদের শপথে মিলবে কি খালেদার মুক্তি?

সুমন দত্ত:
বাংলার এক চিরাচরিত প্রবাদ ‘সেই তো গেলি, তবে কেন লোক হাসালি? সংসদে বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণটা ওরকমই। বলা হচ্ছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছে দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারেক রহমানের আনুগত্য প্রমাণেই এই শপথ। তারেকের নির্দেশেই শপথ। এখানে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ গুরুত্ব পায়নি। এটা মিডিয়াতে বলা হয়।

প্রশ্ন থেকে যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল কেন শপথ নিলেন না? তিনি কি তারেকের প্রতি অনুগত নন? তারেক কি তাকে শপথ নিতে নিষেধ করেছেন? নাকি তিনি নিজে থেকে শপথ নিলেন না। এদিকে মির্জা ফখরুলের এমন কাণ্ড দেখে শাসক দলের লোকেরা বলছে বিএনপি ভেঙ্গে যাচ্ছে।

আসলে বিএনপি একটি গরিব শক্তিহীন দলে পরিণত হয়েছে। একে ভাঙার কিছু নাই। তারেকের ইংগিতেই সব কিছু হচ্ছে। বিএনপির নেতারা রাজপথের আন্দোলনে ব্যর্থ। তাই বিকল্প, সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে খালেদার জামিনে মুক্তির বিষয়টি সুরাহা করা। দরজার পিছনে খেলা এটা।

খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন। এমন সবুজ সংকেত শাসকদের কাছ থেকে পাওয়ার পরই বিএনপির এই মোড় পরিবর্তন। এখন খালেদা জিয়া সত্যিই জামিনে মুক্তি পান কিনা সেটাই দেখার বিষয়। শাসক দল বলছে বিষয়টি পুরো আদালতের। অথচ কে না জানে বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনার হুকুমে চলে। শেখ হাসিনা হুকুম দেন আইনমন্ত্রীকে। আইনমন্ত্রী দলবল নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার স্বীয়পদ থেকে সরে যাওয়া তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আদালতের ওপর কীভাবে হস্তক্ষেপ করেন তার দলিল এস কে সিনহার বই। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। যতদিন বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের সহায়তা নিয়ে চলবে ততদিন এই বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। তাছাড়া বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার ইচ্ছা পূর্বেকার কোনো সরকারেরও ছিল না।

এসব দেখেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সরকারের কাছে আব্দার, খালেদার জন্য করা জামিন আবেদনে যেন রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা না করে। অথচ এই আইনজীবীরা এক সময় জোর গলায় বলত আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ছাড়ব। এখন তারা সেই সাহসটা দেখান না।

সত্যি কথা বলতে কি খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে করা মামলাটা কোনো মামলাই ছিল না। প্রথম দিনেই এক শুনানিতে এটা খারিজ হয়ে যাওয়ার কথা। যদি এর মধ্যে রাজনীতি না থাকতো। ওয়ান ইলিবেনে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটা ছিল বিদেশি চ্যানেলে খালেদা জিয়ার নামে আসা অর্থ এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা নিয়ে। শেখ হাসিনা এ মামলার সূত্র ধরে খালেদা জিয়াকে চোর বলছেন। অথচ চুরি বলতে আইনের ভাষায় আমরা জানি কাউকে কিছু না জানিয়ে বস্তু হস্তগত করা। অর্থাৎ একজনের অধিকারে থাকা বস্তু তার অজান্তে অন্যজনের অধিকারের যাওয়া। খালেদার জিয়ার ক্ষেত্রে কি তেমনটা ঘটেছে? যে অর্থ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা খালেদার নামে পাঠানো হয়েছিল তা খালেদার নামেই আছে। শুধু এক হিসাব থেকে অর্থ আরেক হিসাবে গিয়েছে। কয়েকটি চেকের মাধ্যমে। এই অর্থ সুদে আসলে দিগুণ হয়েছে। এসব দালিলিক নথি আদালতে দেওয়া সত্ত্বেও খালেদা জিয়াকে জোর করে চোর বানানো হয়। তাকে সাজা দেয়া হয়। এটা রাজনৈতিক সাজা।

আরো মনে রাখা দরকার ওয়ান ইলিবেনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলাগুলো কীভাবে কোয়াশ হয়ে গেল তা শেখ হাসিনার আইনমন্ত্রী সঠিক বলতে পারবে। কেউ জানে না তারা সাধু ছিলেন, এই সনদ কে দিল?

লেখক: সাংবাদিক