ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে রোষানলে ৫ পুলিশ

নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় খোকন মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে গৌরীপুর থানায় কর্মরত পাঁচ পুলিশ ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষুব্ধ জনতা ওই পাঁচ পুলিশকে ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ পুলিশকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার বলুহা গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়া (৩০) ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রামগোপালপুর বাজারে মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। গতকাল রাত ১০টার দিকে গৌরীপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল আওয়াল, রুহুল আমিন, আনোয়ার হোসেন, কামরুল ও কনস্টেবল আল আমিন সাদা পোশাকে খোকনের দোকানে যান। তাঁরা খোকনের দোকানে ইয়াবা আছে—এমন অভিযোগে প্রথমে তল্লাশি করেন। একপর্যায়ে ইয়াবা পাওয়া গেছে—দাবি করে তাঁরা খোকনকে আটক করতে চান। খোকন তাঁর দোকানে ইয়াবা নেই জানিয়ে পুলিশকে বাধা দেন। পরে পুলিশের একজন কর্মকর্তা খোকনকে থাপ্পড় মারেন। এতে খোকন অসুস্থ হয়ে পড়লে আশপাশের মানুষজন ছুটে আসেন। বাজারে থাকা ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষ খোকনকে আটকে বাধা দেন। এই খবর জানাজানি হলে আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ রামগোপালপুর বাজারে গিয়ে পাঁচ পুলিশকে ঘেরাও করে ফেলে। পরে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ পুলিশকে জনরোষ থেকে প্রথমে উদ্ধার করে একটি ঘরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাতেই গ্রামবাসী ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে। রাত দেড়টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মহাসড়কে অবস্থান করে। রাত দেড়টার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার কোনো প্রস্তুতি নেই। খোকনের দোকানে ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ওই পাঁচজন পুলিশ। তবে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দিকী  সোমবার দুপুরে বলেন, ‘আমি এ অভিযোগের (ফাঁসানোর চেষ্টা) তদন্ত করছি। গ্রামবাসীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার কোনো প্রস্তুতি নেই। খোকনের দোকানে ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ওই পাঁচজন পুলিশ। তবে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।