মসিকের ৩৩ ওয়ার্ডে, ২৪২ পুরুষ প্রার্থীর মাঝে একাই লড়ছেন ‘বাঘিনী কণ্যা’ রুপা

মো. নজরুল ইসলাম এবং জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ময়মনসিংহ:

আগামী ৫ মে, রবিবার দেশের অষ্টম বিভাগীয় শহর এবং ১২তম ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ইতোমধ্যেই মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামীলীগ মনোনীত ইকরামুল হক টিটুকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মোট ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ২৪২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মাঝে ফাহিমা বেগম রূপা হলেন একমাত্র মহিলা প্রার্থী। এছাড়াও ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৭০ প্রার্থী নির্বাচনের অংশ গ্রহন করছেন।

ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে সাধারণ ২৫ নং ওয়ার্ডে একমাত্র নারী প্রার্থী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাবেক বয়ড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসন (৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড) সাবেক মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুর রহমানের কণ্যা মোছাঃ ফাহিমা বেগম রুপা। রুপা‘র বাবাকে সবাই বাঘা বলে ডাকত। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ সাহসিকতার জন্য তার এই খেতাব মিলে। তিনি খুব ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। এছাড়া মাছ শিকারেও খুব দক্ষ। আজকের সেই বাঘের বাচ্চাই বাঘিনী রুপা। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তেত্রিশ ওয়ার্ডে ২৪২ জন প্রার্থীর মাঝে একমাত্র মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রুপা। ভোটাদের মাঝে ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে রুপা।তার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তার ভক্তরা।

নারী নেত্রী মাহমুদা হোসেন মলি জানান, সত্যি রুপা নারী সমাজের অহংকার। জয় হোক রুপার। জয় নারী সমাজের। নারীর জয়ে সবার জয়। রুপা যে সাহস দিখিয়েছে তা কেউ দেখাতে পারেনি। ২৫নং ওয়ার্ডে রুপার সাথে আরো ১২জন পুরুষ প্রার্থী। রুপা ইচ্ছে করলেই তিনি সংরক্ষিত আসনে দাড়াতে পারতেন। সেখানে না গিয়ে নিজের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ওপর বিশ্বাস রেখে সাহস করে প্রার্থী হয়েছেন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে। সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনি প্রার্থী। শুধু যে হুট করে আর আবেগের বশে ফাহিমা বেগম রূপা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে পড়েছেন, বিষয়টা তা নয়। তিনি পুরো দস্তর একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি।

বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডটি আগে ছিল বয়রা ইউনিয়ন। সেই বয়রা ইউনিয়নের মহিলা সদস্যা ছিলেন ফাহিমা বেগম রূপা। বয়রা ইউনিয়নের দীঘারকান্দা গ্রামে এখন তার ঠিকানা। তার নিজের সেই এলাকাটিই এবার হয়েছে ২৫নং ওয়ার্ড। কাজেই এলাকাতে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পূর্ব পরিচিত এবং পরীক্ষিত। প্রায় ৯ বছর ছিলেন বয়রা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যা। ২০১১ সালে এ ইউনিয়নের নির্বাচন হয়েছিল। এরপর তিনি উপজেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন সদর উপজেলার প্রতিনিধি হিসেবে। তবে এ পদ থেকে বর্তমানে তিনি পদত্যাগ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন।

ফাহিমা বেগম রূপার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোড এলাকায়। বাবা রফিকুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্বা। এসএসসি দেয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায় শহরতলী বয়রা এলাকায়। স্বামী আবুল কালাম আজাদ টুটুল বর্তমানে গাড়ি ব্যবসার সাথে যুক্ত। ফাহিমা বেগম রূপা বিয়ের পর এসএসসি পাশ করেন মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে। এরপর দীর্ঘ সময় বিরতি দিয়ে কয়েক বছর আগে তিনি নাসিরাবাদ কলেজে থেকে বি.এ এবং এর আগে এইচ.এস সি পাশ করেন। রুপার ও আবুল কালাম আজাদ টুটুল দম্পতির ২ ছেলের মাঝে বড় ছেলে রাফি পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা নিয়েছে। আর ছোট ছেলে রাব্বী ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। ফাহিমা বেগম রূপা বয়রা এলাকায় ব্র্যাকের এবং পরে স্বাবলম্বী এনজিও’র অধীনে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন।

ফাহিমা বেগম রূপা বলেন স্বামী, পরিবার এবং এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়েই তিনি এ পর্যন্ত এসেছেন। নারীর অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। ফাহিমা বেগম রূপা বলেন তার ওয়ার্ডে প্রায় ৭ হাজার ভোটারের মাঝে অর্ধেকই নারী ভোটার। তিনি সকল নারীদের ভোট আশা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর সুখে দুখে সব সময় পাশে ছিলেন। স্থানীয় ভোটারদের প্রতি তার আস্থা আছে। বিজয়ী হলে নিজ এলাকাকে তিনি একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।