দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় বাজেট বরাদ্দে মানববন্ধন

জাত-পাত ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ লক্ষ দলিত জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হয় যার অর্ধাংশই নারী। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের গৃহিত বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নারীর মানবাধিকার উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অবদান যেমন আমাদের গর্বিত করে তার বিপরীতে সমাজের দলিত নারীদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি আমাদের সমানভাবে ব্যথিত করে। দলিত নারীর পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের প্রতি বৈষম্য। সমাজে দলিত নারীরা সাধারণত দুইভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। প্রথমত দলিত এবং নারী হিসেবে বৃহত্তর সমাজে এবং দ্বিতীয়ত নারী হিসেবে নিজ জনগোষ্ঠীতে। পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা, বঞ্চনা ও বৈষম্যকে পেছনে ফেলে তাদের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন। ফলে বৃহৎ সমাজের নারীরা যেখানে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে যায় সেখানে দলিত নারীরা তাদের তুলনায় অনেক পেছনে পড়ে থাকে।

দলিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট বরাদ্দ দাবিতে আজ ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ (শুক্রবার) সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সামনে দলিত নারী ফোরাম আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দলিত নারী ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক মনি রানী দাস সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম); তামান্না সিং বাড়াইক, চা-শ্রমিক নেত্রী এবং বিভিন্ন দলিত কলোনী প্রতিনিধিগণ।

দলিত নারীর প্রতি নির্যাতন ও বৈষম্য নিরসনে মানববন্ধনে বক্তারা নারীর উচ্চশিক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির উপর গুরত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকার নারী-বান্ধব সরকার এবং নারীদের শিক্ষার প্রতি বর্তমানে অনেক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন যা প্রয়োজন তা হলো পরিবার পর্যায়ে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা। এক্ষেত্রে দলিত কিশোরীদের বাবা-মায়েদের সচেতন করার মাধ্যমে শিক্ষায় দলিত নারীদের অভিগম্যতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান দলিত জনগোষ্ঠীকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে বিভিন্ন বিশ্বিবদ্যালয়ে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এতে করে কিছুটা হলে দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি শিক্ষা ক্ষেত্রে বাধাসমূহ দূর হতে শুরু করেছে। বক্তারা বলেন, দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তা বাংলাদেশের ৬৫ লক্ষ দলিত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই জনগোষ্ঠী যেভাবে সমাজের সর্বস্তরে অনেক বেশি পিছিয়ে রয়েছে, তাতে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি পর্যাপ্ত পরিমাণে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ। তাই বক্তাগণ জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যুনতম ২০০ কোটি টাকা সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দের দাবি জানান। একইসাথে, দলিত নারীদের অর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে দলিত নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দলিত নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।