অস্বাভাবিকতা কি শুধু জঙ্গিবাদে ?

সুমন দত্ত

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোথাও কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা কথা বলেছেন তিনি। সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধেই যে তিনি অস্বাভাবিকতার শব্দটি ব্যবহার করেছেন সেটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু বাংলাদেশে তিনি ও তার সরকারের মধ্যে যেসব অস্বাভাবিকতা রয়েছে, এসব ব্যাপারে তিনি কেন দৃষ্টি দিতে চান না। এই প্রশ্ন জনগণের।

জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নাম বদলিয়ে রেখেছেন হযরত শাহজালাল (র.) অথচ সেখানে সারি সারি মদের বোতল সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রির আশায়। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

৩০ ডিসেম্বরের ভোট হয়ে গেল ২৯ ডিসেম্বর রাতে। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

বহুতল ভবনে বার বার আগুন লাগে। আর রাজউক থেকে সেই ভবনের নকশা গায়েব হয়ে যায়। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

চুড়িহাট্টা কিংবা নিমতলী। রাসায়নিক গুদাম আবাসিক এলাকা থেকে সরানো যাচ্ছে না। উচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও এসব বাস্তবায়ন করা হয়নি। সাবেক মন্ত্রীরা এজন্য একে অপরের ওপর দোষারোপ করছে। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

জঙ্গি হুজুরদের তিনি তেঁতুল বলে সমালোচনা করবেন আবার সেই তাদের দেয়া কওয়ামী জননী খেতাব গ্রহণ করবেন। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

দেশে জঙ্গি নাই। তারপরও পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা সব হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পাহারায়। রীতিমত যুদ্ধ প্রস্তুতি মহড়ার মাধ্যমে এসব পালন হয়। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

নুসরাত নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো। তার ভাইকে চাকরি দেয়া হলো। অথচ তনু হত্যার শিকার হলেও তার পরিবারের কাউকে চাকরি দিতে শুনিনি। এটা এক অস্বাভাবিকতা। আর বোরকা পড়েও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। এটাও এক অস্বাভাবিকতা।

কেউ ফাঁস লাগিয়ে হত্যার শিকার হলে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নেয়। এটা যে হত্যা কিংবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা কিনা তা খতিয়ে দেখতে চায় না পুলিশ। সব মৃত্যুকেই পুলিশ অপমৃত্যু বলে চালিয়ে দিতে চায়। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

যেসব ব্যক্তি ওয়াজ মহফিলের নামে অন্য ধর্মের উপাস্যদের নিয়ে কটূক্তি করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় না। অন্যদিকে ফেসবুকে কোন জেলার কোন সংখ্যালঘু কি লিখলো, জঙ্গিদের দাবি অনুসারে তাকে রাতারাতি গ্রেফতার করা হয়। এটা ধর্মনিরপেক্ষ নীতির অস্বাভাবিকতা।

জনগণ পাইপ লাইনে গ্যাস পায় না। তারপরও সরকার গ্যাসের দাম বাড়াতে চায়। এদিকে তিতাসের দুর্নীতি রোধে সরকার নীরব। এনবিআরের কাছে বকেয়া বিশাল অংকের অর্থ। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

অন্য দেশের ব্যবসার প্রসারে সিলিন্ডার কেনার উৎসাহ দান। এদিকে সিলিন্ডার ফেটে মানুষ মারা যাচ্ছে। তাতে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে পুলিশ। অথচ এই ব্যবসা রমরমা করেছে সেই পুলিশ। আবার তাদেরকেই দায়িত্ব দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে। এটা এক অস্বাভাবিকতা। সরকারের অন্য কোনো এজেন্সিকে এ দায়িত্ব দিলে ভালো হতো।

বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে। তাদের ক্রসফায়ারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এক অজানা কারণে রাজধানী ঢাকায় তা হতে দেখা যাচ্ছে না। এটা এক অস্বাভাবিকতা। তার দলের যেসব নেতাকর্মী মাদক ব্যবসায় ও সেবনে জড়িত তারা বহাল তবিয়তে আছে। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

পরিবহণ নেতাদের বার বার সতর্ক করা সত্ত্বে তারা লাইসেন্স বিহীন চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন। হচ্ছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

খাদ্যে ভেজাল বিরোধী আইন হলো। ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযানও চলমান। তারপরও খাদ্যে ভেজাল দূর হচ্ছে না। এটা এক অস্বাভাবিকতা। দেখা গেছে একটি দোকানকে ভেজাল খাবার তৈরির জন্য একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছে। তারপরও সেই দোকান ভেজাল খাবার বিক্রিই করে যাচ্ছে। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ খরচ বেশ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। এটাও এক অস্বাভাবিকতা। বলা হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশের টাকায় এই সেতু তৈরি হচ্ছে অথচ বিরোধীদের দাবি এতে বিদেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। দেশের মানুষের ওপর ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে উত্তর দিতে সরকার নীরব। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত যে ব্যক্তির নাম তাকে বানানো হয়েছে অর্থমন্ত্রী। এটা এক অস্বাভাবিকতা। আর দরবেশ বাবা উপদেষ্টা। এটা আরেক অস্বাভাবিকতা।

তার দলের মেয়র এখনো রাজধানীর ফুটপাত গুলো দখল মুক্ত করতে পারেনি। বিশেষ কয়েক জায়গা থেকে হকার উচ্ছেদ হলেও এখনো গুলিস্তানের বিভিন্ন অংশে ফুটপাত দখল করে বসে আছে হকার। এটা এক অস্বাভাবিকতা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশা। এই অস্বাভাকিতাগুলো অবিলম্বে দূর করুন। দেশ ও দশের মঙ্গল হবে এতে। 

লেখক : সাংবাদিক