অভিজ্ঞতাও শক্তি তামিমের

নিউজ ডেস্ক:   পাঁচজন ছাত্র, আটজন শিক্ষক। জাতীয় দলের ক্যাম্প নিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চলতি রসিকতা এটি। এ ক্লাসের মনোযোগী একজন ছাত্র হয়ে উঠেছেন তামিম ইকবাল। জিম, রানিং তো করেনই, নেটে ব্যাটিং সেশনের সময়ও বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে গতকাল ফিল্ডিং সেশনেও ছিলেন। তামিমের এই ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টার একটাই উদ্দেশ্য, ফিট থেকে ছন্দ নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া। যদিও নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য ঠিক করেননি তামিম। তিনি চান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভালো খেলতে।

প্রশ্ন: আয়ারল্যান্ডে বড় চ্যালেঞ্জ কী হবে?

তামিম: আমার কাছে মনে হয় কন্ডিশনটা একটা চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ আয়ারল্যান্ড এমন একটা দেশ, যেখানে আমরা খুব বেশি খেলিনি। শেষ যেবার খেলেছিলাম, তখনও উইকেট খুব একটা সহজ ছিল না। কঠিন ছিল। আমার কাছে মনে হয়, সিরিজের আগের সাত দিনের প্রস্তুতি ও প্র্যাকটিস ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচটা আমরা কীভাবে শুরু করি সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: আপনার ওপেনিং পার্টনার সৌম্য লিগ ম্যাচে ২০৮ করেছেন। ইনিংসটা সম্পর্কে শুনেছেন? এটা তাকে কতটা হেল্প করবে?

তামিম: এটা দারুণ একটা অর্জন যে, বাংলাদেশি কেউ এই প্রথম ২০০ রান করেছে। যদিও আমরা খেলব একেবারেই ভিন্ন একটা কন্ডিশনে, ভিন্ন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে, তবু রান করাটা সবসময়ই ইতিবাচক। এটা আত্মবিশ্বাস জোগায়। সে কোথায় রান করেছে, এটা মুখ্য বিষয় নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, সে রান করেছে। ও যদি শেষ দুই ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি না করে ১০ আর ৫ করে ট্যুরে যেত, ওর মাথার মধ্যে এক পার্সেন্ট হলেও একটা চাপ থাকত। এখন সে অনেক স্বস্তিতে যেতে পারবে।

প্রশ্ন: একজন নিশ্চিত ওপেনিং সঙ্গীর অভাব বোধ করেন?

তামিম: পার্টিকুলার ম্যাচে তো এমন কোনো সমস্যা করে না। কিন্তু যখনই আপনার একজন নিয়মিত ওপেনিং সঙ্গী থাকবে, তখন যেটা হয়, আমরা দু’জনই আমাদের খেলাটাকে ভালো বুঝতে পারি আর কী। অনেক সময় হয়তো এমন থাকে যে, আমার টাইমিং ভালো হচ্ছে না। হয়তো আমি মারছি, কিন্তু ফিল্ডারের কাছে চলে যাচ্ছে। তখন সে সুযোগটা নেবে। আমি নিশ্চিত, লিটন ও সৌম্য অনেক সুযোগ পেয়েছে। আমার বিশ্বাস এবার ওরা দেখাবে কতটা ভালো তারা।

প্রশ্ন: ইংল্যান্ডে আপনার অনেক অর্জন আছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো খেলেছেন। লর্ডসে টেস্ট সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের মাটিতে এবার স্মরণীয় কিছু করার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

তামিম: এগুলো নিয়ে আমি একটুও ভাবি না যে, আমি ইংল্যান্ডে ভালো করেছি। এগুলো নিয়ে ভাবলে আমার কাজটা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। ভালো করি বা না করি, পেছনের জিনিস নিয়ে চিন্তা করতে চাই না। যেটা বর্তমানে আছে, সেটা নিয়েই আমাকে ভাবতে হবে। আর একটা জিনিস, আমি জানি, বিশ্বকাপে সফল হতে হলে আমাকে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হবে। মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রশ্ন: ব্যাটিংয়ের সময় পার্টনারকে রিড করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

তামিম: অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যারা বিশ্বের গ্রেটেস্ট ওপেনিং জুটি, হেইডেন-গিলক্রিস্ট, গাঙ্গুলী-শচীন, শেবাগ-শচীন, তাদের মধ্যে দেখবেন একটা বোঝাপড়া থাকত। আপনি যখন ওদের খেলা ম্যাচগুলো দেখবেন, আপনি মনে করবেন যে, তারা মিডলে মজা করতেন এবং জানতেন পার্টনার কী চায়। এ রকম সুযোগ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের এখনও হয়নি। তবে আমি নিশ্চিত, যে দু’জন বিশ্বকাপে যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশের হয়ে আগামী ১০-১৫ বছর খেলার সামর্থ্য রাখে। ভালো একটা পারফরম্যান্স দেখানোর এটাই সেরা সময় বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য?

তামিম: কোনো টার্গেট নয়, কোনো কিছুই নয়। কারণ আমার কাছে মনে হয়, আমি যখনই কোনো কিছু নিয়ে বেশি ভাবি, তখন কোনো কিছুই করতে পারি না। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি নেই, এটা আমি পরিবর্তন করতে পারব না। এই বিশ্বকাপে যদি আমি এটাই টার্গেট করে যাই যে, একটা সেঞ্চুরি করতে হবে বা খুব রান করতে হবে, তাহলে আমি আসলে অপ্রয়োজনীয় চাপ নেব। বরং আমাকে যে রোলটা দেওয়া হবে, সে রোলটা পালন করতে পারলে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ আসবে।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে বড় স্কোরের ম্যাচ হবে, বাংলাদেশকে কোন কোন ম্যাচে বড় টার্গেট চেজ করতে হতে পারে। তখন অ্যাপ্রোচ কী হবে?

তামিম: ৩৪০-৩৫০ রান চেজ করতে হতে পারে। সঙ্গে এটাও আমরা জানি যে, বিশ্বকাপে হয়তো বেশিরভাগ ম্যাচেই আমাদের ২৮০-৩০০-৩২০ চেজ করতে হবে। যেভাবে এ রান চেজ করা যায় সে পথ বের করতে হবে। এ কারণেই আমরা পাঁচটা ম্যাচ খেলব আয়ারল্যান্ডে। আমাদের যে পরিকল্পনা আছে সেগুলো ওখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে। মানসিকভাবেও প্রস্তুত থাকতে হবে যে, আমাদের বড় রান তাড়া করতে হবে। আমরা খুব বেশি এ রকম রান তাড়া করিনি। তার অনেক বড় কারণ হলো, আমরা যেখানে খেলি, সেখানে ৩০০ রান খুব বেশি হয় না। আশা করব যে পরিকল্পনা আমাদের দেওয়া হবে, সে পরিকল্পনা ভালোভাবে এক্সিকিউট করতে পারব আমরা।