রাউজানে আওয়ামীলীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত:বিক্ষোভ ও অবরোধ

এম বেলাল উদ্দিন,রাউজান প্রতিনিধি:সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শান্তির দ্বীপ সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের উপর বুধবার সন্ধ্যায় একটি ত্বরিকত সংগঠনের নেতা কর্মীদের হামলার ঘটনায় উপজেলা জুড়ে আওয়ামীলীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর পর রাউজান সদরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা। তারা এসময় বিক্ষোভ করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

দুপুর ১২টা থেকে মুন্সিরঘাটা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকশ আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টার দিকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিল শেষে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কের পাখখাইন্যা পুকুর পাড় এলাকায় ব্যরিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

সড়ক অবরোধ চলাকালে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কে যাত্রীবাহি বাস, পণ্যবাহি ট্রাক, সিএনজি অটোরিক্সা, জীপ মোটর সাইকেল সহ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে সড়কে। সড়ক অবরোধ চলাকালে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির তোরণ ও বিলবোর্ড ভাংচুর করে। অন্যদিকে একইদিন বিকালে দক্ষিন রাউজানের নোয়াপাড়া পথের হাট চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কেও নেতাকর্মীরা অবরোধ করে। অবরোধ চলাকালে চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ চলাকালে রাউজান রাঙ্গুনীয়া সাকের্লের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্যাহ, রাউজান থানার ওসি তদন্ত মীর হোসেন, পুলিশের একাধিক দল জলকামান, সাজোয়া যানবাহন নিয়ে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় টইল দিতে দেখা যায়।

এর আগে সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের একটি দল নিরাপত্তার দায়িত্বে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে শহর থেকে পুলিশের একটি জলকামান ও সাজোয়া যান এসে অবস্থান নেন মুন্সিরঘাটায়। এতে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুন্সিরঘাটায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম,প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ,রাউজান সদর ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জজসিম উদ্দিন হিরু,চিকদাইর ইউপি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী,পৌর যুবলীগ সেক্রেটারী জিয়াউল হক রোকন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জিল্লুর রহমান মাসুদ সহ নেতা কর্মীরা।

এদিকে হামলার ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মোজ্জামেল হকের ভাই এনামুল কবির বাদী হয়ে রাউজান থানায় ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করেন বলে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই নুর নবী জানান।মলার এজাহারে ১১ জন মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির সদস্যদের নাম উল্লেখ করে ও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির অনুস্বারীদের আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় রমজান আলীরহাট বাজার থেকে নিজ বাড়ী ফেরার পথে রাউজান ইউপির নুর আলী সারাং এর বাড়ীর আহমদ সগিরের ছেলে মোজাম্মেল হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন ত্বরিকত সংগঠনের মুনিরিয়া তাবলীগ কমিটির উশৃংখল ব্যাক্তিরা। এরপর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে সমগ্র রাউজান জুড়ে। আহত মোজাম্মেল চট্টগ্রামের বেসরকারী একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।