হাইমচরে সয়াবিনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নিউজ ডেস্ক:   জেলার হাইমচর উপজেলায় অনেক আগ থেকেই সয়াবিনের আবাদ হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমে ১৫৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ থেকে জমিতে রোপণ হয়েছে সয়াবিন, বর্তমানে গাছগুলো ফলন দেয়ার সময় হয়ে এসেছে।

হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের গন্ডামারা ও আশপাশের গ্রামে দেখা গেছে ফসলের মাঠজুড়ে শুধুমাত্র সয়াবিনের আবাদ। সয়াবিন কাটার আগে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হাইমচর উপজেলার অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষিকাজ ও মৎস্য আহরণ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। পান ও সুপারির জন্য অতি পরিচিত উপজেলায় এখন সয়াবিন চাষ হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এ বছর ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। আর এ সয়াবিন চাষের সাথে জড়িত আছেন প্রায় ৮ হাজার কৃষক। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ এ ফসল চাষ করার জন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই। কারণ সয়াবিন চাষে সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করতে হয়, ফলে খরচও কম হয়। তবে চাষের পরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে লোকসানে পড়তে হয় কৃষকদের। আগামী মাসের (মের) মধ্যে সয়াবিন কাটা হয়ে যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি হেক্টরে কমপক্ষে ২ মেট্টিক টন সয়াবিন উৎপাদন হবে। স্থানীয়ভাবে সয়াবিনের চাহিদা কম থাকলেও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে উৎপাদিত সয়াবিন ক্রয় করে নিয়ে যান।

উপজেলার গন্ডামারা গ্রামের কৃষক আজহার মিয়া জানান, তিনি প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করে আসছেন। এ বছর সয়াবিনের গাছগুলো এখন পর্যন্ত খুবই ভালো আছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো (বাম্পার) ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক ইউসুফ হাওলাদার জানান, আমি প্রায় ৫ একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছি। চাষের ক্ষেত্রে আমাদের বড় সমস্যা হলো সেচের পানি । পরিকল্পিতভাবে সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে কৃষকদের সয়াবিন চাষাবাদ খুবই লাভজনক হতো।
হাইমচর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া জানান, সয়াবিন অর্থকরী ফসল। খরচ কম হওয়ায় সয়াবিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেছি। এ বছর ৫০ জনকে ১ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সয়াবিন চাষাবাদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আমরা সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। একটি পর্যায়ে সয়াবিন চাষাবাদ এ উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে বলে আমাদের আশাবাদ।