শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত থাকবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

মোঃ মনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) থেকে: মণিরামপুরবাসীর ভালবাসায় অভিভূত হলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম।শুক্রবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলা সম্প্রসারণ কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন শেষে এক সূধী সমাবেশে তিনি এ ভালবাসার অনুভূতি প্রকাশ করেন। গাড়িবহর নিয়ে যশোর থেকে সড়ক পথে উদ্বোধনী স্থলে আসার পথে উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও পৌর শহরে মন্ত্রীকে বরণ করতে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান। এসময় ব্যবসায়ীমহলসহ মন্ত্রীর গাড়ি বহরে সর্বস্তরের জনতা ফুল বৃষ্টি ছিটিয়ে ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করেন।

ভবন উদ্বোধণ শেষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সূধী সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ ষড়যন্ত্রকারিদের প্রত্যাখান করেছে। আগামীতেও প্রত্যাখানের মধ্যে দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত থাকবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে উন্নত দেশ গড়তে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চলেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দু:খ, দুর্দশাগ্রস্থ বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশকে অন্ধাকারের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিলো। এমনি এক ক্লান্তিকালে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ ২১ বছর মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামের পর ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নানামূখী নিয়েছিলেন। ৪৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে দেশকে খাদ্য স্বংসম্পূর্ণ করেছিলেন। ১১শ’ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদ থেকে বাড়িয়ে ১৬শ’ মেঘাওয়াটে উর্ন্নীত করেছিলেন।

এ্যাসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের (১৯৯১-৯৬) ও ২০০১-০৬) সমালোচনা করে বলেন, সারের জন্য ১৪ জন কৃষককে সেদিন গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো। কানসার্টসহ সারাদেশে বিদ্যুতের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমেছিলো। মানুষের নায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আহসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এসএম কিবরিয়া, মমতাজ উদ্দীনের মত জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। ওই জোট সেদিন ক্ষমতায় এসে দেশকে লুটের সিন্ডিকেট করেছিলো।
তাই ২০০৮ সালে ফের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জননেত্রী শেখ হাসিনা সার, বীজ, কীটনাশক কৃষকের দৌর গড়ায় পৌছে দেয়। দেশ আবার খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করে। দেশেকে উন্নত করতে শিল্পায়নের বিকল্প নেই। এমন ধারনা নিয়েই বিদ্যুৎ, গ্যাস উৎপাদনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গঠনে সব শ্রেণির মানুষের সন্তানদের শতভাগ শিখ্সিত করতে বিনামূল্যে বই ও ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়েকে জাতীয়করণ করেছেন এবং তারা নূন্যতম ২৫ হাজার টাকা বেতন গ্রহণ পাচ্ছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে বলেন, আগামীতে আরো বেতন বৃদ্ধি হবে। এক সময় গার্মেন্টস কর্মীরা নাম মাত্র মুজুরি পেতেন। আজ তারা ন্যুনতম ৮হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি মণিরামপুর পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণী থেকে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নতি করার ঘোষনা দেন। এর আগে বক্তব্যের শুরুতে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ সম্ভ্রম হারানো কথা অবনত মস্তকে স্মরণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় আন্দোলনে সংগ্রামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

উপজেলা চত্তরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী মণিরামপুরের মা-মাটি মানুষের সন্তান স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরু-ই এলাহী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দীন শিকদার, জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, একান্ত সচিব জাহিদ হোসেন চৌধূরী, উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব কবির খানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জনপ্রতিনিধি ও সূধীমহল উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।