ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপে ভোটের গ্রহন শুরু

নিউজ ডেস্ক:  প্রখম ধাপে ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে দিল্লি দখলের লড়াই। আজ ভারতের ২০ রাজ্য ও ইউনিয়ন টেরিটরির ৯১টি আসনে ভোট দেবেন প্রায় ১৪ কোটি ভোটার। সাত ধাপে মোট ৫৪৩ আসনে জয়ের জন্য লড়বেন প্রার্থীরা। সরকার গড়তে দল বা জোটকে ২৭২ আসন পেতে হবে। ইতোমধ্যে করা বেশ কিছু জরিপে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বড়ো ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। লোকসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বায়োপিক ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ এর মুক্তি আটকে দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে কেরালার ওয়েনাডের পর এবার উত্তর প্রদেশের আমেঠি থেকে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের এক হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বেশিরভাগ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি ও তাদের জোট এনডিএ এবং বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের প্রার্থীরা। বিজেপি ৮৭ ও কংগ্রেসের ৮৬ প্রার্থী প্রথম পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই দুই দল ও তাদের জোটের বাইরে থাকা আঞ্চলিক দলগুলোর প্রার্থীরাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। ভারতে এবার ৮৭ কোটি ভোটার। তার মধ্যে সাড়ে ৮ কোটি নতুন ভোটার। নতুনদের ভোট যাদের দিকে যাবে তারাই ভারতে ক্ষমতা দখল পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে। বিজেপি, কংগ্রেস সবাই তাই ব্যস্ত নবীনদের মন জয় করতে। প্রথম দফার ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হবে ভারতের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর। পশ্চিমবঙ্গের দুইটি আসনে নির্বাচন হবে।

পরবর্তী ধাপের ভোটের জন্য নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। মোদির বায়োপিকের মুক্তি নিয়ে যে জটিলতা চলছিল তার অবসান হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, লোকসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বায়োপিক দেখানো যাবে না। কারণ এই ছবি মুক্তি পেলে ভারতের রাজনৈতিক ‘পরিবেশ’ নষ্ট হতে পারে। কারো জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি বায়োপিকের বিষয়বস্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থের জন্য হতে পারে। তাই নির্বাচনী আচরণ বিধি বলবত্ থাকা পর্যন্ত এটা সিনেমা হল বা বৈদ্যুতিক কোনো মাধ্যমে দেখানো উচিত নয়।

এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেরালার ওয়েনাডের পর উত্তর প্রদেশের আমেঠি থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই আসন থেকে পরপর দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে আমেঠির সদর শহর গৌরীগঞ্জে রোড শো করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন মা সোনিয়া গান্ধী, ছেলে রায়হান এবং মেয়ে মিরায়াকে নিয়ে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও তার স্বামী রবার্ট ভদ্রও। মনোনয়ন ঘিরে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা।

এদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বাগযুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেসের ইশতেহারে রাষ্ট্রদ্রোহী আইন বাতিল ও কাশ্মির থেকে সেনা কমানোর প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সোনাগড়ে এক জনসভায় বলেন, পাকিস্তানের দাবি পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে এই ইশতেহারে।

পাল্টা আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, মোদি অনিল আম্বানির (ভারতের ব্যবসায়ী) চৌকিদার। আমার সঙ্গে সরাসরি বিতর্কে বসলে দেশ জানতে পারবে। তিনি আর ভারতবাসীর কাছে মুখ দেখতে পারবেন না। রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের করদীঘির জনসভায় গতকাল আরো বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই ভোট শেষ হবে, কংগ্রেস সরকার গড়বে। মোদির বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। চৌকিদার ভয় পেয়েছে, কারণ সাধারণ মানুষ তার চুরি ধরে ফেলেছে। চৌকিদার জেলে যাবেন। কংগ্রেস কখনো বিজেপির সঙ্গে কোথাও জোট করেনি; কিন্তু মমতা ব্যানার্জি করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জের চোপড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি স্বৈরাচারী। তার কর্মকাণ্ড দেখলে হিটলারও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতেন। মমতা অভিযোগ করে বলেন, কংগ্রেস জেতার জন্য আরএসএসের সঙ্গে জোট করছে। আর সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপির হাত শক্ত করা। মোদির শাসন আমলে গোরক্ষার নামে নির্বিচারে গণ পিটুনির ঘটনা ঘটেছে, মুসলিমদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে।

এদিকে, চোপড়া যাওয়ার পথে গতকাল মমতার হেলিকপ্টারের যাত্রাপথ নিয়ে বিড়ম্বনা দেখা দেয়। সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সভাস্থল হওয়ায় তার হেলিকপ্টার ভুল করে বাংলাদেশে অবতরণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ফলে সভাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়। ঘটনার পর মমতার নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।