ফুট ওভারব্রীজগুলোতে জনদুর্ভোগ না বাড়িয়ে জনবান্ধব করা হোক

ঢাকা শহরের প্রায় ফুট ওভারব্রীজগুলো ব্যবহারের অনুপোযোগী বা কোনটা বিভিন্ন কারনে ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রীজগুলো যে স্থানে স্থাপন করার কথা সেখানে না হয়ে দূরে হওয়ার কারনে মানুষ ব্রীজগুলো ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা রাস্তার উপর দিয়ে পারাপার হওয়ার চেষ্টা করে। যেসব জায়গায় লোকজন চলাচল বেশি সেখানে বিভিন্ন পশরা বসিয়ে ব্রীজের অর্ধেক জায়গা দখল হওয়ার কারনে মানুষ দু’দিক থেকে স্বাভাবিভাবে চলাচল করা অনেকটা কষ্টকর। অনেক ব্রীজের দু’দিক থেকে এমনভাবে ব্যাণার, ফেস্টুন দেয়া হয়, কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটলে নীচ থেকে বা অনতিদূর থেকে বুঝা উঠাও মুশকিল। তাই অনেক সময় মহিলারা ভয়ে ঐসব ব্রীজ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। আবার অনেক জায়গায় ব্রীজের উপর যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা এবং মল-মূত্র লক্ষ্য করা যায়। সেসব ব্রীজে নানান নেশাগ্রস্থ লোক শুয়ে বা ঘুমিয়ে আছে, আবার কোথাও লক্ষ্য করা যায় ছোট ছোট শিশু ছেলে মেয়ে থেকে বয়স্ক লোকজন পলিথনে এক জাতীয় নেশাবস্তু ঢুকিয়ে তা ফু দিচ্ছে। খোদ রাজধানীর বুকে এসব দুশ্য দেখলে একদিকে যেমন ঘৃণার সৃষ্টি করে, অপরদিকে ঐ সকল লোকজন আস্তে আস্তে নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তা দেখভাল করার কেউ নেই। অবুজ ছেলেমেয়েগুলো যখন পলিথিনে ফুঁ দিয়ে আনন্দ অনুভব করে, তখন আমাদের মনে করিয়ে দেয় ভঙ্গুর এই সমাজ ব্যবস্থার কথা। ছোট ছেলেময়েগুলো তাদের হাতে থাকবে বই পুস্তক অথচ তাদের হাতে নেশার বস্তু এবং খোদ রাজধানীর বুকে হওয়ার কারনে আমাদের রাষ্ট্রের উঁচুতলা থেকে নীচুতলার সকল লোকজন চেয়ে চেয়ে দেখছেন। প্রশাসন থেকে সাধারণ নাগরিক বা বিভিন্ন এনজিও গুলো এব্যাপারে শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিলে এসব অনাকাংখিত দৃশ্যগুলো হয়তোবা দেখতে হতোনা।


আজ ফুট ফ্লাইওভারগুলোর অব্যবস্থাপনার কথা বলার চেষ্টা করছি। আজ সকাল সাড়ে দশটা দিকে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে অথচ লোহার পাতে কোন ছিদ্র না রাখায় মতিঝিল ফ্লাইওভারে পানি জমে থাকার কারনে পিচ্ছিল রাস্তায় চামড়া জুতা ভিজে চলাচল করছে আবার অনেকে জুতা না ভেজাতে একপাশে কম পানি থাকায় দুই দিকের লোকজন একদিকে ঘেঁসে চলার কারনে ছোটখাট ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে । (ছবিতে বাস্তবতা লক্ষ্য করা যাবে) আবার অনেকে ব্রীজ থেকে নেমে নীচে রাস্তার উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এসব ফুট ওয়ারব্রীজ ব্যবহার করার জন্য ট্রাফিকের বিভিন্ন জোন বিভিন্ন প্রচারনা চালান কিন্তু সেগুলো ব্যবহারে কতটুকু উপযোগী সেটি দেখভালের কর্তৃপক্ষ চোখে পড়েনা। সিটি কর্পোরেশন বা নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ শীর্ষক প্রকল্প-এর উদ্যোগে এসব ব্রীজগুলো নির্মিত ও পরিচালিত এবং এসব প্রকল্প রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্রীজ তৈরি করে বড় করে তাদের নাম ফলক ব্রীজের সহিত জড়িয়ে দেয়া হয়। ব্রীজের কারনে জনগন কি নির্মল বায়ু পাচ্ছেন এবং পরিবেশই বা কেমন টেকসই হচ্ছে জনগন তা বোধগম্য নয় এবং কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে তাদের উদ্দেশ্য বা এর সুফল জনগনের মাঝে সেভাবে তুলে ধরতে পারেন নাই। আবার এসব ব্রীজের দু’পাশে বাহারি টবের মাঝে গাছ লাগিয়ে শোভা বর্ধন করার চেষ্টা করলেও গ্রীস্ম ঋতুতে সেসব টবে পানি না দেওয়ার কারনে গাছগুলো মরে গিয়েছে এবং অনেক জায়গায় টবগুলো দেখে মনে হয় সেখানে কখনো কোন গাছ লাগানো হয়নি। মতিঝিল ব্রীজটা অতি গুরুত্বপূর্ণ কারন শাপলা চত্বর থেকে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত রাস্তার এপার থেকে ওপাওে কোন স্থানে  পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এই ব্রীজটি ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, যাত্রাবাড়িগামী বাসগুলো ব্রীজের গা ঘেঁসে লম্বাভাবে এবং দুটি গাড়ির মাঝে কোন জায়গা না রেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারনে এবং সুযোগ বুঝে জায়গাটিতে গন শৌচাগার পরিণত হওয়ায় ব্রীজের গোড়ায় কোন পথিক আসতে পারেনা। তাদের আসতে হয় রাস্তার উপর দিয়ে এবং থামানো বাস এবং পেছন থেকে আসা চলন্ত বাসের মাঝ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজে উঠতে হয়। এসব বিড়ম্বনার কারনে অনেকে রেলিং টপকে রাস্তা পারাপার হয়। তবে মাঝে মাঝে ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়।

মতিঝিল থেকে সন্নিকটে কমলাপুর ফ্লাইওভারব্রীজও এরকম নানান অব্যবস্থাপনা জর্জরিত। বাসাবো, দক্ষিনগাঁও, মুগদা, মান্ডা মায়াকাননসহ ঢাকা পূর্বাঞ্চলের হাজার হাজার অফিসগামী লোকজন এবং মতিঝিলে কয়েকটি বড় স্কুল থাকায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকগণ এই ব্রীজ ব্যবহার করেন। ব্রীজটি অনেক টাকা খরচ করে কয়েক বছর আগে উপরে টিনের ছাঁদের ব্যবস্থা করা হলেও কোন অদৃশ্য শক্তির কারনে টিনের ছাউনি লাগানো হয়নি। ফলে রোদ-বৃষ্টি উভয়ক্ষেত্রে এসব লোকজনের ভোগান্তি হচ্ছে। ব্রীজটির পূর্বদিকে অর্থাৎ কমলাপুর বিশ্বরোডের উপর ব্রীজের টিনের পাত ক্ষয় হয়ে অনেক জায়গায় জনগনের পা ঢুকে যাওয়ার কারনে সেখানে বড় বড় পাথর দিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ এসব ব্রীজ ঠিক না করে কোন রকম তালি জোড়া দিয়ে চলার চেষ্টা করছে। অন্যান্য জায়গাগুলোর ন্যায় সিমেন্টের স্লাবগুলো বসালে জনদুর্ভো অনেকটা লাঘব হয়। বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটার পর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপের পর বাহাদুর সাহেবরা এসব কাজ সম্পন্ন করবেন এসব জনগন কানাঘুষা করেন। প্রতিটি কাজ করার পর এর কোন মনিটরিং না থাকার কারনে আমাদের প্রতিটি অর্জন বিফলে যায়। তাই মতিঝিল বা কমলাপুর ফ্লাই ওভারব্রীজের ন্যায় বড় বড় শহর ও উপশহরগুলোতে যেসব ব্রীজগুলোতে ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে তা আশু পদক্ষেপ নিয়ে নানান বিড়ম্বনা ও মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবেন এটাই জনগনের প্রত্যাশা। মোহাঃ খোরশেদ আলম, নির্বাহী পরিচালক, হিউম্যানরাইটস এন্ড এনভায়ারম্যান্ট ডেভে. সোসাইটি(হিডস)।