নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক:    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিলেও মোকাব্বির খানকে বহিস্কার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে গণফোরাম। দলের বড় অংশটি তাকে বহিস্কারের পক্ষে অবস্থান নিলেও সিনিয়র কয়েকজন নেতা মোকাব্বিরের পক্ষে রয়েছেন। যে কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি গণফোরাম। তবে নেতাকর্মীদের চাপে আগামী ২০ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

এদিকে গণফোরামের দুই এমপি শপথ নেওয়ায় দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। কারণ শপথ নেওয়ার পর মোকাব্বির দাবি করেন, তিনি ড. কামালের অনুমতি নিয়েই শপথ নিয়েছেন।

তবে গত বৃহস্পতিবার মোকাব্বিরকে চেম্বার থেকে বের করে দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ড. কামাল। তার ‘কঠোর’ অবস্থানে একদিকে দলের নেতাকর্মীরা যেমন বার্তা পেয়েছেন, তেমনি ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপির নেতারাও আশ্বস্ত হয়েছেন বলে মনে করছেন গণফোরাম নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণফোরামের দু’জন এমপি শপথ নেওয়ায় তাদের ঐক্যে কোনো সমস্যা হবে না। ঐক্যফ্রন্ট আরও শক্তিশালী হবে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, মোকাব্বির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছেন। সেখানে দল কিংবা দলের সভাপতির কিছু করার ছিল না। ড. কামাল হোসেন বৃহস্পতিবার যা করেছেন, তাতে মনে হয়, তাকে নিয়ে আর ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না। মোকাব্বিরের শপথে ঐক্যফ্রন্ট বরং শক্তিশালী হবে বলে দাবি করেন সুব্রত চৌধুরী। তিনি জানান, ২০ এপ্রিল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বিরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগে গত মাসে শপথ নিয়ে গণফোরাম থেকে বহিস্কৃত হন মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বিরের বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে গণফোরাম সূত্র।

সূত্র জানায়, গণফোরামের দু’জন এমপিই শপথ নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে দলের বড় অংশ সংসদে না যাওয়ার বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করে। যদিও গণফোরাম প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে যাচ্ছেন বলে এটাকে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন কয়েকজন নেতা।

দলের অভ্যন্তরীণ এ মতবিরোধের মধ্যেই ৭ মার্চ সুলতান মনসুরের সঙ্গে শপথ নিতে চেয়েছিলেন মোকাব্বির। পরে দলের কঠোর মনোভাবের কারণে পিছিয়ে আসেন গণফোরামের নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য প্রতীকে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর আসন থেকে ভোটে বিজয়ী মোকাব্বির।

দলের বাধায় প্রথমে পিছু হটলেও গণফোরাম সভাপতির মতামতকে নিজের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেন মোকাব্বির। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে পরামর্শ করে মোকাব্বির খান গত রোববার তার নির্বাচনী এলাকা সিলেট বিশ্বনাথে এক জনসভার আয়োজন করেন। পরে দাবি করেন, জনসভা থেকে ভোটাররা তাকে শপথ নিতে বলেছেন। তাই শপথ নেবেন। এতে ড. কামালেরও সায় রয়েছে দাবি করে তিনি দলীয় প্যাডে স্পিকারকে চিঠি দেন শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে।

বিএনপি তৃণমূলের নেতাদের অভিযোগ, জনসভা আয়োজনে মোকাব্বির বিএনপি থেকে বহিস্কৃত বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান সুয়েল আহমেদ চৌধুরীকে সামনে রাখেন। তবে স্থানীয় বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই জনসভায় যাননি।

জনসভা প্রসঙ্গে মোকাব্বির খান কাছে দাবি করেন, গণফোরাম তাকে জনসভা আয়োজন করতে বলেছিল। বলা হয়েছিল, এই সভা থেকে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা দলের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। গণফোরাম সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। তবে গণফোরামের দায়িত্বশীল কোনো নেতা মোকাব্বিরের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বির জোটের মনোনয়ন পান। তাহসিনা রুশদীর লুনা জানান, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা না করে দলের বহিস্কৃত নেতাকে সঙ্গে নিয়ে মোকাব্বির জনসভা করেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত সুয়েল আহমেদ চৌধুরী এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে মোকাব্বির খানের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জনসভায় যোগ দেন। তাদের এরই মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি।

গণফোরাম সূত্র জানায়, আগামী ২৬ এপ্রিল মহানগর নাট্যমঞ্চে দলের কাউন্সিল হবে। এর আগে ২০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কমিটির সভা রয়েছে। এ সভায় দলের বেশিরভাগ নেতা সংসদে না যাওয়ার পক্ষে মতামত দিতে পারেন, এ আশঙ্কায় মোকাব্বির খান দ্রুত শপথ নিয়েছেন।

সূত্র: সমকাল