দেশে প্রধানত পাঁচটি উদ্দেশ্যে ফেইক নিউজ : আনিসুল হক

নিউজ ডেস্ক:  দেশে প্রধানত পাঁচটি উদ্দেশ্যে ফেইক নিউজ (ভুয়া খবর) চর্চা করা হয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এসব ফেইক নিউজের প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন, সাইবার আদালত গঠন এবং গুজব প্রতিরোধ ও অবহতিকরণ সেল গঠনের পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ ও অনলাইন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

‘ভুয়া খবর ও ঘৃণামূলক বক্তব্য, কারণ ও পরিণাম; কিভাবে তা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধংস করছে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

শনিবার (০৬ এপ্রিল) রাজধানীর কসমস সেন্টারে ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, সিঙ্গাপুর এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদষ্টো ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রথম বক্তা ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড ইন্টারনেট ডেমোক্রেসি-এর প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপ ও আইটি আইন বিশেষজ্ঞ ড্যান শেফেট। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসমস ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ খান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ফেইক নিউজ বা ভুয়া খবর বাংলাদেশের নতুন কোনো শব্দ বা ধারণা নয়। ‘খবর’ ও ‘ভুয়া খবর’ অনেকটা সত্য ও মিথ্যার মতোই সমান্তরালভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। আপনাদের নিশ্চয়ই জানা আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী অনেক ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো। তারা আমাদের মহান স্বাধীনতাকে নিয়ে ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে নিয়ে ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুর অবদানকে নিয়ে ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো। এমনকি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যও তারা দেশ ও বিদেশে অনেক ফেইক নিউজ ছড়িয়েছে এবং তা বিভিন্ন প্রকৃতিতে ছড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক টুইটার বা ইউটিউবের মাধ্যমে ভুয়া খবর, ইমেজ, ভিডিও বা হেট স্পিচ ছড়িয়ে পড়ছে এবং এসবের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া খবর তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে। আবার সুপ্রতিষ্ঠিত নামিদামি সংবাদ মাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট নকল করে তার মাধ্যমে ফেইক নিউজ ইমেজ, হেট স্পিচ ছড়ানো হচ্ছে। ফলে সাধারণ পাঠক এই সকল ফেইক নিউজ থেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেউ কেউ এমন সব সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন যার শিরোনামে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত সংবাদ প্রতিষ্ঠান লোগো যুক্ত করা থাকে।

আনিসুল হক বলেন, আমাদের দেশে প্রধানত পাঁচটি উদ্দেশ্যে ফেইক নিউজ চর্চা করা হয়। এক. সাম্প্রদায়িক গুজব ছড়ানো। দুই. উগ্র রাজনৈতিক ধর্মীয় মিথ্যাচার প্রচার। তিন. রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। চার. জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ৫. অবৈজ্ঞানিক জল্পনা-কল্পনা প্রচার করা। এক্ষেত্রে শেষের ফেইক নিউজে কারও বড় রকমের ক্ষতি না হলেও অন্যান্য ধরনের ফেইক নিউজে সহিংস প্রভাব পড়ে জনজীবনে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ অনেক দেশের মূলধারার সংবাদ মাধ্যম এখন সংবাদের প্রাথমিক উৎস হিসেবে ফেসবুক-টুইটার ব্যবহার করে। কাজটা দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সাথে করলে ঝুঁকির আশঙ্কা কম থাকে। কিন্তু অধিকাংশ অনলাইন সংবাদমাধ্যম তা করে না। ফলে ভুয়া খবর পুনঃপুন ব্যবহার ঘটতেই থাকে।

এসব ফেইক নিউজের প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন ,সাইবার আদালত গঠন এবং গুজব প্রতিরোধ ও অবহতিকরণ সেল গঠনের পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং অনলাইন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ফেইক নিউজের প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে বিটিআরসি, আইসিটি বিভাগ, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রীর মতে, সরকারের একার পক্ষে এ কাজ সফলভাবে করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, মূলধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তৈরি করে তা দ্রুততম সময়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে যাতে তারা সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ না হয়। সংবাদমাধ্যমগুলোকে সত্য এড়ানোর প্রবণতা/নীরবতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। 

আনিসুল হক বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ফেইক নিউজ তৈরি করে প্রচার করছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। তাদের অৎর্থের উৎস খুঁজে বের করতে হবে।