তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ন হবে ভারতীয় লোকসভা নর্বিাচন

নিউজ ডেস্ক:   তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ৭ ধাপের এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে স্বপদে বহাল থাকবেন নাকি নতুন কোনো নেতা হাল ধরবেন ১৩৩ কোটি মানুষের।

ভারতীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্বাচন ঘিরে তৈরি হচ্ছে জোট-মহাজোট। ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আঞ্চলিক ও ভোটের রাজনীতির মারপ্যাঁচে সর্বভারতীয় বিজেপি ও কংগ্রেস তো বটেই, দিল্লি দখলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের মতো তুলনামূলক ছোট দলগুলোও। তবে ভোটের মাঠের রেফারি নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো দলেরই বড় ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের এই নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা ভারতীয় গণতন্ত্রকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা। খবর টাইম, সিএনএন ও বিবিসির।

১৯ মে পর্যন্ত চলবে নির্বাচন। ১০ লাখ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ৯০ কোটি ভোটার। ২৩ মে ঘোষণা করা হবে ফলাফল। সেদিনই জানা যাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি আবারও ক্ষমতায় থাকবে, নাকি ফিরে আসবে দেশটির প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেস।

বিভিন্ন জরিপে বলা হচ্ছে, বিজেপি আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে ২০১৪ সালে মোদি ম্যাজিকে যেভাবে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, এবার আর সেটা হচ্ছে না। তখন অর্থনীতিকে চাঙ্গা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার মোদি করেছিলেন তা তিনি রক্ষা করতে পারেননি। সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বেকারত্বের হার ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ফ্রান্স থেকে রাফায়েল জঙ্গিবিমান কেনা নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে, তাতে মোদির দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিও ম্লান হয়েছে।

১৭তম লোকসভার এই নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন ৫৪৩ সাংসদ। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অল্প্রব্দ, অরুণাচল, সিকিম ও ওড়িশায় রাজ্যসভা (বিধানসভা) নির্বাচনেও ভোট হবে। নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত, নতুন প্রবর্তিত পণ্য ও পরিসেবা কর (জিএসটি), বেকারত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা।

কাশ্মীরে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন হামলার পর চিরবৈরী পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে মোদি ভোটের মাঠে ফায়দা তুলতে চেয়েছিলেন বলে বিশ্নেষকরা মনে করছেন। তবে পাকিস্তানের সংযত ও দৃঢ় পাল্টা পদক্ষেপে মোদির সেই স্বপ্ন দৃশ্যত চুরমার হয়েছে। বিজেপিবিরোধীরা অভিযোগ করছেন, মোদি পাকিস্তানে হামলার ধুয়া তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছেন। পাকিস্তানে হামলায় আদৌ কেউ মারা গেছে কি না সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
এসব সত্ত্বেও তরুণ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ভোটের মাঠে কতটা সুবিধা করতে পারবে তা নিয়ে রাজনৈতিক পণ্ডিতরা সন্দিহান। তবে সর্বশেষ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাফল্য দলটির নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। কংগ্রেসের নির্বাচনী চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গান্ধী পরিবারের সেনসেশন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

বিশ্নেষকরা বলছেন, বিজেপি আবার ক্ষমতায় এলে দেশটিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ শক্ত আসন গেড়ে বসবে। ৭০ বছর ধরে ভারতীয় সংবিধান অলঙ্কৃত করা ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের পছন্দ নয়। গত ৫ বছরে দেশটিতে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষুষ্ণতা বেড়েছে। গরুর মাংস রাখার অপরাধে প্রাণ দিতে হয়েছে বহু মুসলিমকে। দেশটিতে জনসংখ্যার ১৪ ভাগ মুসলিম হলেও তারা বিজেপির উত্থানে শঙ্কিত। বিজেপি শাসনে দেশটিতে ভিন্নমতাবলম্বীরা ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

মোদির বায়োপিকের মুক্তি স্থগিত: নরেন্দ্র মোদির জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর প্রযোজক। শুক্রবার ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ ছবিটির মুক্তি তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তার আগের দিন তা স্থগিত করার কথা জানান প্রযোজক সন্দ্বীপ সিং। জানা গেছে, ছবিটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি। তাছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনে ছবিটির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ছবিটি মুক্তি স্থগিতের দাবি তুলেছে। ছবিটিতে বাল্যকালে রেলস্টেশনে মোদির কথিত চা বিক্রেতা জীবন, দুই বছরের আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও গত নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিজেপির ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের তথ্য রয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বলিউডের নায়ক বিবেক ওবেরয়।