গোয়ালে গিয়ে আর গরু তল্লাশি করবে না বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, গৃহস্থের গোয়াল বা বাজারে গিয়ে আর গরু তল্লাশি করবে না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কোন দেশ থেকে গরু এসেছে, তাও পরীক্ষা করবে না। সীমান্ত এলাকায় তাদের যে দায়িত্ব, তারা সেটুকুই পালন করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

মাদক ও মানব পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকার এমপি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় সভা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি অনেক সময় অতিউৎসাহী হয়ে কিছু কাজ করে ফেলে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হন; আহত হন অন্তত ২০ জন। সে প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মামলাও হয়েছে। মামলার আলামত হিসেবে তদন্ত রিপোর্টগুলো গ্রহণ করে তারাও কাজ করবে।

সীমান্ত হত্যা বিষয়ে তিনি বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে আমাদের লোকেরা সীমান্তে চলে যায় বা তার কাটতে যায়। সে জায়গায় গেলেই ওরা গুলি করে।

মাদক ব্যবসায় বিজিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মাদক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করছে। তারা সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিলের কারখানা বন্ধ করছে। তবে মিয়ানমার কোনো সহযোগিতা করছে না। দেশটির নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অনেক কথাই বলেন, তবে পালন করেন না।

মতবিনিময় সভায় সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার ৬২ জন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, এনবিআরের প্রতিনিধি, আট বিভাগের কমিশনার এবং সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সীমান্তবর্তী এলাকার এমপিরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং সমাধানের জন্য কিছু পরামর্শ দেন। তারা বলেন, বিজিবি সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর সীমা যেন আরও কমিয়ে আনা হয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী বিজিবি পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করে। এটা কমানো যায় কি-না তা আলোচনা করে দেখা হবে।

সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, তার এলাকায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীও যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তার বিরুদ্ধে মামলা এবং চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সীমান্তে ‘দুর্বলচিত্ত’ ওসিদের বদলে ‘ডায়নামিক’ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

দিনাজপুর এলাকার এক এমপি অভিযোগ করেন, তার এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে অনুষ্ঠান করছে পুলিশ।

সভায় আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে লেদে বানানো অস্ত্র আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসছে। হলি আর্টিসান হামলায় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোনো কোনো সময় তারা এগুলো আনার চেষ্টা করে। বিজিবি সীমান্তে থার্মাল সেন্সর লাগিয়েছে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে ‘সারভেইল্যান্স সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে সীমান্তের সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।