সরকার খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে: বিএনপি

নিউজ ডেস্কঃ   দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর সরকার পূর্বপরিকল্পিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত করতে বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাপান, নরওয়ে ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত; ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, তুরস্ক, চীন, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও মরক্কোর উপ-রাষ্ট্রদূত; সুইজারল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার।

বিএনপির পক্ষে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ সিনিয়র নেতারা।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে দুই পাতার লিখিত বক্তব্যে দলের মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তার পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কৌশলে কষ্ট দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিত্যক্ত অন্ধকার কারাগারের ভবনে ফেলে রাখার কারণে তার স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে।

ফখরুলের ভাষ্য, প্রথম অবস্থায় তিনি (খালেদা জিয়া) এতটা অসুস্থ ছিলেন না। হেঁটে কারাগারে গেছেন হাজিরা দিতে। কিন্তু এখন তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। চোখে দেখেন না ঠিকমতো। চিকিৎসক তার এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) করাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটাও করা হয়নি। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের (চিকিৎসকরা) আশঙ্কা তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে গেছে। কিন্তু সরকার তারপরও ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো উপেক্ষা করেই চলছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে তার জীবননাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল কূটনীতিকদের জানান, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার অনেক অবনতি হয়েছে। খালেদা জিয়া ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে রিউমাটোয়েড আর্থাইট্রিস, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং পাঁচ ধরে হাইপারটেনশন, আয়রন স্বল্পতা ও অ্যানেমিয়াতে ভুগছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাজীবন শুরুর পর তিনি কিডনির রোগ ও লিভার অ্যাইলমেন্টে আক্রান্ত হয়েছেন। বারবার অনুরোধের পর অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী, ডা. শামীম আহমেদ, ডা. ফাতেমা পারভীন, ডা. চৌধুরী ইকবাল মাহমুদ ও ডা. বদিউজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে (খালেদা জিয়া) দেখতে যান।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৬ অক্টোবর তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্ত ১১ নভেম্বর চিকিৎকদের অনুমতি ছাড়া তাকে কারাগারে ফেরত নেয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, এই মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে গিয়েছিলেন ডা. কে জামান ও ডা. মাহমুদুল হাসান। বোর্ডের সদস্যরা তার মেরুদণ্ডের দৃশ্যমান ক্ষয় ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দুর্বলতা দেখেছেন। গত ১২ মার্চ কিছু মেডিকেল পরীক্ষার পর নতুন করে তার কিছু শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে। এর মধ্যে ঘাড়ে ব্যথা, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ও কিডনি সমস্যা অন্যতম। এ ছাড়া সুগার বাড়ছে, কোলেস্টেরল বাড়ছে।

সরকার খালেদা জিয়ার সব ধরনের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। একের পর এক অসংখ্য মামলা দিয়ে তার বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করছেন বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।