রাশিয়ার অস্ত্র কেনা নিয়ে তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের হুশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক:   রাশিয়ার কাছ থেকে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল এস-৪০০ প্রযুক্তি কেনায় তুরস্ককে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। যে প্রযুক্তিকে মার্কিন জেট বিমানের জন্য হুমকি হিসাবে দেখছে দেশটি। খবর বিবিসির।

ন্যাটোর ৭০তম বর্ষপূর্তিতে মাইক পেন্স বলেছেন, ‘তুরস্ককে অবশ্যই বেছে নিতে হবে। তারা কি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক জোটের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসাবে থাকতে চায়, নাকি দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে চায়; যা আমাদের জোটকে খাটো করবে?’

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যেই ওয়াশিংটন তাদের এফ-৩৫ ফাইটার প্রোগ্রাম থেকে তুরস্ককে সাময়িক স্থগিত করেছে। ওই প্রযুক্তির বদলে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার ওই মিসাইল প্রযুক্তি ন্যাটোর অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে খাপ খায় না।

তুরস্ক জবাব দিয়েছে যে, ওই উন্নততর প্রযুক্তি কেনার ব্যাপারে এর মধ্যেই চুক্তি হয়ে গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে আঙ্কারা। ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত ন্যাটো জোটের মধ্যে তুরস্ক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক শক্তির অধিকারী, যে জোট গঠিত হয়েছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করার জন্য।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলূ বারবার বলেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ওই চুক্তিটি বাতিল করা সম্ভব নয়। পরে একটি টুইট বার্তায় তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে। তারা কি তুরস্কের বন্ধু হিসাবে থাকতে চায়, নাকি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায়। যারা শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ন্যাটো সহযোগীদের প্রতিরক্ষাকে দুর্বল করে তুলতে চায়?’

আঙ্কারা বলছে, এস-৪০০ প্রযুক্তি দেশটির প্রতিরক্ষার জন্য সহায়ক হবে, যখন দেশটি কুর্দি বিদ্রোহী আর ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হুমকিতে রয়েছে।

এস-৪০০ প্রযুক্তি ‘ট্রিউমফ’ হলো বর্তমান বিশ্বে ভূমি থেকে আকাশে মিসাইল নিক্ষেপের সবচেয়ে উন্নততর প্রযুক্তি। এটার আওতা হচ্ছে ৪০০ কিলোমিটার এলাকা। একটি এস-৪০০ প্রযুক্তি দিয়ে একনাগাড়ে ৮০টি লক্ষ্যে আঘাত করা যায়। রাশিয়া জানিয়েছে, স্বল্প উচ্চতার ড্রোন থেকে শুরু করে যেকোনো উচ্চতায় বিমান এবং দূরপাল্লার মিসাইলে আঘাত হানতে সক্ষম এই প্রযুক্তি।