সাংবাদিকদের বিভাজনই অধিকার আদায়ে বাধা

সুমন দত্ত: বাংলাদেশে সংবাদপত্রের সাংবাদিকরা স্বাধীন নয়। সংবাদপত্রের মালিকরা স্বাধীন। সাংবাদিকরা পরাধীনতার মধ্যে থেকে দাবি দাওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন থাকার কারণে দাবি পুরন হচ্ছে না।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “শ্রমিকের পেশাগত ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং মজুরি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় এ সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ(বিলস) ও বাংলাদেশ লেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরাম-বিএলআরজেএফ। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এম আবদুল্লাহ,ডেইলিস্টারের সাবেক সাংবাদিক আবদুল জলিল ভুঁইয়াসহ ডিইউজে ও বিএফইউজের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বলেন, সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে আমরা একটা সুপারিশ দেব। তা বাস্তবায়ন করবে সরকার। তাই উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাদের সুচিন্তিত বক্তব্য আশা করছি।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা এতে মত দেন। সরকার গণমাধ্যম কর্মীদের ওয়েজবোর্ড কেন বাস্তবায়ন করছে না তা জানতে চান সাংবাদিক নেতাদের কাছে। সাংবাদিকরা ছাটাইয়ের ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এতে সাংবাদিক সংগঠনের সোচ্চার হওয়ার কথা ছিল। সেটা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা। দেশে ১২০০ দৈনিক পত্রিকা আছে। অথচ হাতেগোনা কয়েকটাই মাত্র চলে ও বিজ্ঞাপন পায়। বাকী পত্রিকাগুলোর অস্তিত্ব কোথায়?

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সাংবাদিকদের রুটি রুজির কথা সবাই বলেন।কিন্তু মালিকরা তা বাস্তবায়ন করতে চান না। এর প্রধান কারণ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন। এই বিভাজনের কারণেই তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেয়।

আবদুল জলিল ভুঁইয়া বলেন, সাংবাদিক নেতাদের গালি দেয়া সহজ। সমালোচনা করা সহজ। সাংবাদিক নেতাদের গাড়ি থাকলে অন্য সাংবাদিকরা তার সমালোচনা করেন। অথচ সমালোচনা হওয়া উচিত সেই নেতাদের যাদের কোনো চাকরি নাই তারা কীভাবে গাড়ি বাড়ির মালিক হলেন। আমি সাংবাদিকতা করে পয়সা রোজগার করে গাড়ি কিনেছি। দুই নম্বরি করে গাড়ি কিনেনি। সাংবাদিকদের স্বার্থের কথা বলতে গিয়ে ডেইলি স্টারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতা হতে গেলে পয়সা লাগে। আর আমাকে নেতা বানান আপনারা। আপনারা কেন সাংবাদিক নেতাদের পয়সা খেয়ে তাকে ভোট দেন। তার কি ঠেকা পড়েছে আপনাদের হয়ে কাজ করবে? সে তো বাণিজ্য করবেই। সরকারের মন্ত্রীরা মালিকের হয়ে কাজ করেন। এই তো সম্প্রতি জি বাংলা বন্ধ করা হয়েছিল মালিকদের স্বার্থে। সাংবাদিকদের স্বার্থে জি বাংলা বন্ধ হয়নি। বিজ্ঞাপনের টাকা অন্য দেশে চলে যাবে তা ঠেকাতে মালিকপক্ষ সরকারের কাছে আবেদন জানায়। সরকার তাদের স্বার্থে পদক্ষেপ নেয়। এই হলো বাস্তবতা। আগের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মালিকের হয়ে কাজ করেছেন, এখনকার তথ্যমন্ত্রীও হাছান মাহামুদ একই অবস্থায় আছেন।

সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ বলেন, আজ যারা সাংবাদিক নেতাদের সমালোচনা করেন। রাজপথের আন্দোলনে তাদের একজনকেও আমরা পাই না। অথচ সেমিনারে এসে আমাদের সমালোচনা করে যান। ২০১৮ সালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা মোট ৪৮টি আন্দোলন করেছি। তার একটিতেও এসব সমালোচনাকারীদের দেখা যায় না। আজ আমাদের ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমাদের মধ্যে অনৈক্য এজন্য দায়ী।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিকদের মধ্যে আজ অবক্ষয় শুরু হয়েছে। আজ সাংবাদিকদের মর্যাদা নেই। কেন নেই। মর্যাদা আদায় করে নিতে হয়। সেজন্য সাহস দরকার। আমরা ৩২৫ টাকা বেতন দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেছিলাম। আমাদের সাহস ছিল। আজ সাংবাদিকরা অনেক বেতন পান কিন্তু সাহস নেই। আন্দোলন করেই সাংবাদিকদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। কেউ আপনাদের হয়ে অধিকার আদায় করে দেবে না। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের জন্য একটা আলাদা আইন করেছিলেন। সেই আইন অনুসারে সাংবাদিকরা মর্যাদা পেত। ২০০৬ সারে বিএনপি-জামাত সেই আইন বদলে ফেলেছে। সাংবাদিকরা হয়ে গেল শ্রমিক। তাই অধিকার আদায়ের জন্য একবার আমাদের শ্রম মন্ত্রীর কাছে অন্যবার তথ্যমন্ত্রীর কাছে যেতে হয়। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হলেই দাবি আদায় সম্ভব।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪ডটকম