পুরো দেশে পাতা মামলার ফাঁদ

সুমন দত্ত: দেশে এখন গণতন্ত্র নাই। পুরো দেশে পাতা মামলার ফাঁদ। কাকে কোন মামলা দেওয়া হবে এই ধান্দায় থাকে শাসকগোষ্ঠী। নতুন শুরু হয়েছে গায়েবি মামলা।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের আয়োজক ফ্রি থিংকার্স ফাউন্ডেশন। আলোচনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না।

জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, আলোচনা রাজনৈতিক বক্তব্য বাদ দিয়ে করার অনুরোধ জানানো হলো। তিনি আরো বলেন এই অনুষ্ঠানে অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেনি। হয়ত কি জানি হয় এই চিন্তা করেই তারা আসলেন না।

বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতা বক্তব্য রাখেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেন। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দেশে গণতন্ত্র ফিরবে বলে তারা জানান।

অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, দেশে আজ এক দলের শাসন চলছে। একজন রিকশাওয়ালা পর্যন্ত বিশ্বাস করে না ভোট দিয়ে ক্ষমতা পরিবর্তন করা যাবে। তিনি বলেন, এক সময় নাগরিক কমিটির লোকেরা শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বাসায় যেতেন। তারা বলতেন শেখ হাসিনা ভদ্র খালেদা জিয়া অভদ্র। কারণ খালেদা জিয়ার কাছে গেলে তিনি বসিয়ে রাখতেন। দেখা করতেন না। ২০-৩০ মিনিট পর তিনি আসতেন।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা বাড়ির গেট থেকে আমাদের ঘরে নিয়ে যেতেন। কথা বলতেন। এর কারণ শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। খালেদা জিয়া তা নন।তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিক ভারতের শ্রমিকের চাইতে কম বেতন পান।

মাহামুদর রহমান বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র নাই মানবাধিকার নাই। এটা এক কথায় বলা যায়। প্রতিদিন বিভিন্ন সভায় এই কথাই বলি। বাংলাদেশের মানুষ ৩০ ডিসেম্বর পর ট্রমায় পড়েছে। ভোটের সময় রাতের বেলা পুলিশ বসে কীভাবে সরকারি দলের সদস্যদের জেতাতে হবে। বাংলাদেশে একটি বিপ্লব হতো। সেটা ভোটের বিপ্লব। কিন্তু সরকার সেটা হতে দেয়নাই। একসময় বিপ্লব হবেই। তিনি বলেন, আদালতগুলো আজ সরকারের মন মতো চলে। উদাহরণ হিসেবে খালেদা জিয়ার মামলা দেখুন। ২ কোটি টাকার মামলায় তাকে ৭ বছর সাজা দেয়া হলো। অথচ এটা কোনো দুর্নীতি নয়।

এই টাকা ব্যাংকের এক হিসাব থেকে অন্য হিসেবে গেছে। এই হচ্ছে অনিয়ম। এই টাকা হারিয়ে যায়নি সুদে আসলে ৮ কোটি টাকা হয়েছে। পারভেজ মুশাররফ ২০ বছর সাজা পেয়েছে। পরে তিনি জামিন পান। খালেদা জিয়া ৭ বছর সাজা পেয়েও জমিন পেলেন না। তারপর আরো দেখা যায় তিনি এক মামলা থেকে জামিন পেলে আরেক মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে।

রাষ্ট্র গণতন্ত্র খেয়ে ফেলছে। আজ কথা বলতে ভয় পাই। আমার কথাগুলো আমি নিজে রেকর্ড করি। তারপর ফেসবুকে দিয়ে দেই। পুরো দেশ আজ মামলার ফাঁদ। ৬ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু তৈরিতে লাগছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। শুরু হয়েছিল ১০ হাজার কোটি থেকে। পরে সেটি ৪০ হাজার কোটি টাকা। বলা হয় নিজের অর্থে। মিথ্যা কথা। এখানে বিদেশি লোন আছে। আর আসাম-অরুনাচল ভুপেন হাজারিকা সেতু ৯.১ কিলোমিটার মাত্র ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এবার পার্থক্য বুঝেন। এদেশে প্রতিটি মানুষের ঘাড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার লোন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪ডটকম