শর্ট সার্কিটে মিটারে আগুন,ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বড়কাপন এলাকায় শর্ট সার্কিটে আগুন লেগে ১০/১২টি বাড়ির মিটার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রবিবার রাত ৩টার দিকে প্রবাসী তপনের ঘরের বারান্দায় এ ঘঠনাটি ঘটে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আগুন আর আগুনের খবর নিয়ে নানা শঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন মানুষ। ঠিক এমন সময় ৩১ মার্চ দিবাগত রাত ৩ টায় ঘরের মিটার থেকে শর্ট সার্কিটে আগুন লাগে ফ্রান্স প্রবাসী ফয়েজ আহমদ তপনের বাড়িতে। কুলাউড়া বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টার পরও তারা ফোন কল উঠায় নি।

পরে তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ও এসআই দিদার উল্লাহ এর নেতৃত্বে পুলিশ এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে গ্রামের আশপাশের প্রায় ৯/১০টি বাড়ির বিদ্যুৎ মিটার আগুনে পুড়ে যায়। আরও প্রায় ১০/১২টি বাড়ির মিটারও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে বিদ্যুতের দূর্ঘটনার দায় যে বিদ্যুৎ অফিসের, সেই অফিসের কোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্থ কোন মানুষের ফোন কল ধরেন নি। এমনকি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেন ও পুলিশের এসআই দিদার উল্লাহ-এর ফোন কলও ধরে নি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন।

জানা যায়, প্রবাসী তপন ২২ দিন হয় দেশে এসেছেন। তপন ছাড়াও একই এলাকার ফখরু মিয়া, মাহবুব করিম মিন্টু, সোনা মিয়া, কয়ছর মিয়া, সফাত মিয়া, সৈয়দ হাবিবুর রহমান, লুৎফুর রহমান, আজিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়ার ঘরের বিদ্যুৎ মিটার আগুনে পুড়ে গেছে। উপায়ন্তুর না দেখে স্থানীয় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি ইমরান আহমদের সরণাপন্ন হয় স্থানীয়রা। ফায়রসার্ভিসের লোকজনের সহায়তায় ইমরান বেশীরভাগ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

বিষয়টি দেখতে পাশের ঘরের লোকজন বাইরে এলে দেখতে পান বারান্দায় স্থাপিত মিটারে আগুন জ্বলছে এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ছে। আগুনের দৃশ্য দেখে তাঁরা চিৎকার-চেচাঁমেচি শুরু করলে আশপাশের মানুষ এসে বিদ্যুৎ অফিস ওয়াপদা, ফায়ার সর্ভিস, কুলাউড়া থানা পুলিশকে ফোন কল করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের সহায়তায় ওয়াপদা বিদ্যুৎ অফিসে রাত ৪টার দিকে গিয়ে দেখা যায় সবাই ঘুমে বিভোর। এরমধ্যে ফোন কলের দায়িত্বে থাকা ডিউটিরত কর্মচারী মেহেদী বেশ আয়েশে নিদ্রায় মগ্ন ছিলেন। অনেক ডাকাডাকির পর তিনি অফিসের দরজা খুললে উপস্থিতির বিভিন্ন অভিযোগের কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুঁটে যাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এবং আমাদের পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে যাই। বিদ্যুতের আগুন নেভাতে যে সব সরঞ্জাম প্রয়োজন তা আমাদের কাছে নাই। তারপরেও মানুষ, ঘর-বাড়ি ও মালপত্র বাঁচাতে অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি।