বাংলাদেশের সকল গ্রাম হবে ডিজিটাল গ্রাম : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশের সকল গ্রাম হবে ডিজিটাল গ্রাম। এই লক্ষ্যে গ্রামীণ জনপদে তথ্য প্রযুক্তির সকল সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে যে আমার গ্রাম আমার শহরের কথা বলেছিলেন তা আজ ডিজিটাল গ্রামে রূপান্তর ঘটছে।

সিংড়া থানার সার্ধশত বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার বিকেলে সিংড়া কোর্ট মাঠে শোভাযাত্রা উত্তর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে মানব সম্পদ। সেই সম্পদ গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। আমাদের অতীতের সময়ের মধ্যে গত ১০ বছরে আমরা ডিজিটাল যুগে এসে পৌছেছি। এই দেশের অমিত সম্ভাবনাময় যুব শক্তি তথ্য প্রযুক্তি খাতকে ব্যবহার করে দেশকে উন্নত বাংলাদেশের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ষাট এর দশকে এই উপমহাদেশের মধ্যে সিংড়ার হুলহুলিয়া গ্রামের কম্পিউটার প্রোগ্রামার হানিফ উদ্দিন মিয়ার হাত ধরে এই দেশে কম্পিউটারের প্রচলন ঘটে। পরবর্ত্তীতে ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ আইটিএল এর সদস্য পদ লাভ করে এবং বেতবুনিয়াতে স্থাপিত হয় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষকে দুই লাখ পুলিশের সদস্য নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছে। ইতোমধ্যে এক হাজার থানাকে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ৯৯৯ নম্বর ব্যবহার করে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে যে কোন মানুষ পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের জরুরী সেবা পাচ্ছেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এম জিয়াউল আলম, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডি আই জি এম. খুরশীদ হোসেন, নাটোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান খান, নাটোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) মীর আসাদুজ্জামান, সিংড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে প্রধান অতিথি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। ১৮৬৯ সালের ৩০ মার্চ সিংড়া থানা স্থাপিত হয়। ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সিংড়া থানা পুলিশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।