পর্তুগালে মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভালে দুই বাংলাদেশি শিল্পী

নিউজ ডেস্ক:   পর্তুগালে মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভাল ‘নেক্সট স্টপ’-এ প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের পর অংশ নিচ্ছেন দুই বাংলাদেশি শিল্পী। গত ২৮ মার্চ উদ্ধোধন হয় তিনদিনের এই ফেস্টিভাল। দুইজন বাংলাদেশি শিল্পীসহ বিশ্বের ১৫ দেশের প্রায় ৬০ জন শিল্পী এই ফেস্টিভালে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা ছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী।

বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের একজন শারমিন মৌয়ের চিত্রকর্ম দুটি স্টেশনে উদ্ধোধনের দিন হতে চার মাসের জন্য প্রদর্শিত হবে। তার চিত্রকর্মের নাম ‘মানবতার রং’ যার মূল বিষয় মানুষের ভেতরের রং। এ বিষয়ে শারমিন মৌ জানান, ‘মানুষকে বাইরে আমরা ভিন্ন রুপে দেখলেও প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরে লুকানো একটি মানুষ থাকে, লুকানো একটি ছবি থাকে যেটি বাইরের রুপের সাথে অনেক সময় মিলে না। সমাজের মানুষের বেতরের আসল রুপ ভিন্ন হয়, হিংস্র হয় অনেক সময় কোমল হয়। এসব রুপগুলো শারমিন তার চিত্রকর্মে তুলে ধরতে চেয়েছেন’।

শারমিন দীর্ঘ সময় ধরে পর্তুগালে বসবাস করছেন। স্বগৌরবে করছেন লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব। তিনি পর্তুগালে বাংলাদেশকে তার রং তুলিতে তুলে ধরছেন প্রতিনিয়তই। স্থানীয় পর্তুগিজদের সাথে সমান তালে তার মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। তার সাথে সাথে তুলে ধরছেন নিজের দেশীয় সংস্কৃতি ও চিত্রকর্ম। পর্তুগালে বাংলাদেশী পোশাকে শারমিন মৌয়ের ফ্যাশন শো স্থানীয় কমিউনিটিতে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ফেস্টিভালে অংশগ্রহণকারী আরেক গর্বিত বাংলাদেশী পর্তুগালে গবেষণারত জনপ্রিয় বাংলাদেশি শিল্পী কে এম মোস্তফা আনোয়ার। ‘নেক্সট স্টপ’ ফেস্টিভালে ‘মোস্তফা ও বন্ধুরা’ শিরোনামে একটি কনসার্ট করেছেন তিনি। বাংলা গান এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে পরিচিত করাতে দীর্ঘসময় ধরে পর্তুগালের ফেস্টিভ্যালগুলোতে তিনি পরিবেশনা করে থাকেন। ভিন্ন ভিন্ন ভাষা দক্ষতায় তিনি বাংলা গানের অনুবাদ করেও পরিবেশন করেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষরা ছাড়াও পর্তুগালের স্থানীয় অনেক ভক্ত, অনুরাগী রয়েছে কে এম মোস্তফা আনোয়ারের।

পর্তুগালের রাজধানী মেট্রোপলিটান লিসবনের ব্যস্ততম এলাকা আলমিরান্তে রেইস। লিসবন মিউনিসিপ্যালিটির দুটি বৃহৎ ওয়ার্ড সান্তা মারিয়া মাইওর এবং অ্যারিওস। পুরনো সব স্থাপত্য এবং পৃথীবির প্রায় ৭৯ দেশের ভিন্ন ভিন্ন মানুষদের বসবাস এই এলাকাগুলোতে। এই এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় পর্তুগিজ কমিউনিটি, ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষ আর ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাসীরা মিলে এই এলাকা মাল্টিকালচারাল মানুষদের এলাকা হিসেবে পরিচিত।সবসময়ই এই বিশেষ একটি এলাকায় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। যেখানে স্থানীয় পর্তুগিজদের সাথে সমানতালে অভিবাসী সম্প্রদায়ও সংযুক্ত থাকেন।

এবার তাই লিসবন মিউনিসিপ্যালিটি ও লারগো রেসিডেন্সিয়াসের সহযোগীতায় গাবীব আলমিরান্তে রেইস নামের স্থানীয় একটি অ্যাসোসিয়েশন ভিন্ন এক উদ্যোগ। ৭৯ ভিন্ন দেশের অভিবাসীদের নিয়ে অন্যরকম আয়োজন প্রজেক্ট “নেক্সট স্টপ” কিংবা প্রকল্প “পরবর্তী গন্তব্য”।  দীর্ঘ বাছাইয়ের পর স্থানীয় শিল্পীরা সহ ৬০ জন্য শিল্পীকে চুড়ান্ত করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে গান, চিত্রকর্ম, থিয়েটার, পাপেট শো, নাচ ইত্যাদি।

প্রকল্পটির অন্যতম পরিচালক মার্তা সিলভা বলেন, লিসবনের অ্যারিওস ওয়ার্ডের আলমিরান্তে রেইস এলাকাটি সবচেয়ে বেশী মাল্টিকালচারাল। ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতির মানুষদের মিশ্রণে এই এলাকা অনেকটাই রঙ্গিন। সবসময়ই এই এলাকায় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। যা ভিন্ন একটি পরিবেশ তৈরী করে। আমাদের প্রকল্পটি সম্পূর্ণ মেট্রোর ভেতরে এখানে শুধু স্থানীয় মানুষেরা আসেন না! অনেক বিদেশী মানুষও আছেন বিশেষ করে তাদের কাছেও তুলে ধরা যে সুন্দর মাল্টিকালচারাল পরিবেশ আমাদের এখানে আছে।

প্রকল্পের চমক বা ভিন্নতা যেটি রয়েছে সেটি হলো সম্পূর্ণ প্রকল্পটি যেমন শিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, নাচ, গান পরিবেশন সব কিছুই লিসবন মাল্টিকালচারাল জোনের চারটি মেট্রো স্টেশনের (মার্তৃম-মুনিজ, ইন্তেন্দেন্তে, আন্জুস, অ্যারিওস) ভেতরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের মাধ্যমে ফেস্টিভালে ১৫ দেশের প্রায় ৬০ জন শিল্পী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এরমধ্যে দুইজন বাংলাদেশী শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন ফেস্টিভালে। চিত্রকর্মে শারমিন মৌ এবং গানে কে এম মোস্তফা আনোয়ার।

লিসবন মিউনিসিপ্যালিটির দুটি বৃহৎ ওয়ার্ড সান্তা মারিয়া মাইওর এবং অ্যারিওস। পুরনো সব স্থাপত্য এবং পৃথীবির প্রায় ৭৯ দেশের ভিন্ন ভিন্ন মানুষদের বসবাস এই এলাকাগুলোতে।