এফ আর টাওয়ারের দুই মালিক ৭ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর সড়কে এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলাম (৬৬) ও ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুকের বিরুদ্ধে (৭৫) সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

অভিযুক্তদের আদালতে উপস্থিত করে ডিবি ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিন আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলাটিতে তাসভির উল ইসলাম ও এস এম এইচ আই ফারুকের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর জোগসাজশে মানুষের জানমালের ক্ষতি, অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপের ফলে অপরাধজনক অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণহানি, মারাত্মক জখমসহ সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।

গতকাল (শনিবার) রাত পৌনে ১১টার দিকে তাসভিরের বারিধারার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। এদিন রাত ১টার দিকে জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুককেও (৬৫) আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এর আগে ডিবি উত্তর বিভাগের এডিসি গোলাম সাকলাইন সিথিল গণমাধ্যমকে বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হবে।

ওই ঘটনার আরেক এজাহারধারী আসামি রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল। তার গ্রেফতারের বিষয়ে এডিসি গোলাম সাকলাইন সিথিল বলেন, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অবশ্যই চলছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন নিহত হন। আহত অবস্থায় অর্ধশতাধিক মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতদের মধ্যে আবু হেনা মোস্তফা কামাল নামের একজনের ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয়। এনিয়ে এ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়ায়।