অনাস্থা থেকেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না: মাহবুব তালুকদার

খুরশেদ, ঢাকানিউজ২৪:   অনাস্থা থেকেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। রবিবার (৩১ মার্চ) উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপের ভোটের পরপরই রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রিমোট কনট্রোলে নির্বাচনকে কনট্রোল করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার হিসেবে ঘোষিত উপজেলা পরিষদে স্বায়ত্তশাসন নেই। উপজেলা পরিষদকে সংসদ সদস্যদের আওতা থেকে মুক্ত করা না হলে এ নির্বাচন কোনোক্রমেই সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও ত্রুটিমুক্ত হওয়া সম্ভব না।’
তিনি বলেন, ‘অনেকের মতে, উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন জাগে, কত দূর যাওয়ার পর এই ঘুরে দাঁড়াবার বোধোদয় ঘটলো? উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র বন্ধ করা এবং অনিয়মের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের সময় তা দেখা যায়নি কেন? এর জবাব খুঁজলে জাতীয় নির্বাচনের প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটিত হবে।’

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার দায় ভোটারদের ওপর চাপানো ঠিক নয় মন্তব্য করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন বিষয়ে অনাস্থা থেকেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। যেসব কারণে আমরা ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি, সেসবের কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। বিগত দুই বছরে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। ওইসব নির্বাচনে যেসব ভুলভ্রান্তি হয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধ করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন বা ভোটদানে জনগণের যে অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে জাতি এক গভীর খাদের দিকে অগ্রসরমান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যভই নির্বাচন। নির্বাচনবিমুখিতা গণতন্ত্রের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার নামান্তর। আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় সামিল হতে চাই না। রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখা প্রয়োজন।’
জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এই কমিশনার।

বলেন, ‘রিমোট কনট্রোলে নির্বাচনকে কনট্রোল করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। এ জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও বাস্তবায়ন করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের অনীহা দূর হবে।’