ভালো নেই হাওর এলাকার মানুষ

সুমন দত্ত: দেশের অর্থনীতিতে হাওর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জিডিপির ২ শতাংশ হাওর থেকে আসে। তারপরও হাওর অঞ্চলের লোক সমস্যা পীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত। ভালো নেই হাওর এলাকার মানুষ।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে হাওরের সুশাসন ব্যবস্থা এবং হাওরবাসীদের অধিকার শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট বক্তারা। এএলআরডি নামের একটি সংস্থা এই সেমিনারের আয়োজন করে। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, পরিবেশবাদী আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান , নির্মল ভট্টাচার্য, কাসমির রেজাসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, হাওর অঞ্চলে মানুষ নানা সুবিধা বঞ্চিত। সেখানে রয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অভাব। কেউ সেখানে থাকতে চায় না। হাওর অঞ্চলের দুর্নীতি নিয়ে যারা সোচ্চার তাদেরকে হত্যা করা হয়। তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হয় না। আজাদ মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো হয়নি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন হাওর এলাকার বসবাসকারী জেলে সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। তারা বলেন, হাওরের জলমহাল গুলো ঠিক মত ইজারা দেয়া হয় না। বিভিন্ন সমিতি নামে এসব জলমহাল ইজারা দেয়া হলেও এসব সমিতির সদস্যরা মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় সমিতির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এছাড়া রাজনৈতিক নেতারা একাধিক জলমহাল ইজারা নিয়ে রেখেছে।

নির্মল ভট্টাচার্য বলেন হাওরের আরেকটি সমস্যা যারা সরকারকে জমির খাজনা দেন তারা সারা বছরের জন্য দেন। কিন্তু সারা বছর জমির ব্যবহার করতে পারেন না হাওরের লোক। তিন থেকে চার মাস হাওরের জমি ব্যবহার করতে পারেন তারা। তাই সরকারের কাছে আবেদন তারা যেন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হাওরের এলাকার জমির খাজনা নেন।

হাওর এলাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের দুর্নীতির কথা হয়। সরকার প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে এসব বেড়ি বাধ নির্মাণ করা হয়। ঠিক মত অর্থ খরচ করে এসব বাধ নির্মাণ হয় না। হাওরের সব এলাকায় বাধ নেই। সেখানে আগাম বন্যা ঠেকানোর জন্য বাধ নির্মাণ করতে হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার পাথর উত্তোলনকারীদের ইজারা দিয়ে হাওর এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। মাত্র ৩৫ কোটি টাকা পাওয়ার আশায় এই ইজারা দেয়া হয়।আর তারা ক্ষতি করছে তার চাইতে বেশি।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪ডটকম