মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় চাষি

নিউজ ডেস্ক:   মুন্সীগঞ্জে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু উত্তোলন করতে। আলু তোলার পর বস্তা ভর্তি করা থেকে কোল্ড স্টোরেজ কিংবা বাজারজাতকরণে তারা নাওয়া খাওয়া ভুলে গেছেন। কৃষকের সঙ্গে কাজে হাত লাগিয়েছেন তার স্ত্রী-সন্তানরাও। তাদের যেন কোনোদিকে তাকানোর ফুরসত নেই। এবারো এখানে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু তাতেও হাসি নেই চাষিদের মুখে। দাম কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন পার করছেন তারা।

জানা গেছে, প্রতিকেজি আলু এখানে বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকায়। এর উত্পাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ৯ থেকে ১০ টাকা। প্রতি কেজিতে লোকসান হচ্ছে ১ থেকে ২ টাকা। বিগত ৪ বছরের মতো এবারো তারা প্রতিনিয়ত লোকসান আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গেল চার বছর আলুর ফলন ভালো হলেও প্রতি বস্তায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা লোকসান হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা দিগুণ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জেলার সিরাজদিখান, লৌহজং, শ্রীনগর, গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ি ও সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই আলু তোলার মহোত্সব চলছে। বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকদের অবিরাম আলু তোলার দৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। সদর উপজেলার চরাঞ্চলে যেদিকে দৃষ্টি পড়ে সর্বত্র শুধুই আলু আর আলু। কোথাও উত্তোলন শেষে মাঠেই আলুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পরে এ আলু বস্তাভর্তি করে বাজারজাত করা হবে। আবার কেউ কেউ বস্তাভর্তি করে আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারে নিয়ে যাচ্ছেন।

দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার আলু ব্যবসায়ী দাদন মাদবর বলেন, প্রতি বছরই তিনি আলু উত্তোলন মৌসুমে কয়েক হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রেখে থাকেন। পর পর দুই বছর অনেক টাকা লোকসানও গুনেছেন। তাই এ বছর এখনো আলু কিনছেন না। তবে দেখে-শুনে বাজার সুবিধা মতো থাকলেই আলু কেনা শুরু করবেন। একই গ্রামের আলু চাষি আরিফ মাদবর বলেন, আলু চাষ করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই বার বার আলু চাষ করে লোকসান হলেও এ চাষ ছাড়তে পারেন না। এ বছরও তিনি ৩৩০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছিল ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি ৩৩ শতকে তার খরচ হয়েছিল ২৭ হাজার টাকা; কিন্তু ৩৩ শতক জমির আলু ক্ষেতে রেখেই বিক্রি করেছেন ২৫ হাজার টাকা। এতে তার মোট বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট লোকসান হয়েছে ২০ হাজার টাকা। জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমি। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম জমি আবাদ হয়েছে। এ বছর আলু উদপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ লাখ টন। এ বছর বাম্পার ফলনের কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলায় মোট হিমাগার ৭৮টি হলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ৬৮টি। এসব হিমাগারে ধারণ ক্ষমতা ৫ লাখ টন। কিন্তু বাম্পার ফলন হওয়ায় হিমাগারের অভাবে চাষিরা ক্ষেতে রেখেই লোকসানে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তা ছাড়া যথেষ্ট পরিমাণ পাইকার না থাকায় প্রতি মণ আলু বিক্রি করছেন ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। চাষিদের মণপ্রতি খরচ হয়েছে সাড়ে ৩শ’ টাকা। এতে চাষিদের মণপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে মণপ্রতি ৫০-৭০ টাকা।