যুদ্ধাপরাধ আপিল মামলা নিষ্পত্তির জন্য বেঞ্চ গঠনের সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক:  সর্বোচ্চ আদালতে থাকা মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ যুদ্ধাপরাধীর মামলার চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তিন বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এসব আপিল ঝুলে রয়েছে। তদন্ত সংস্থা থেকে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে এসব আপিল নিষ্পত্তির জন্য সুপারিশ করেছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাননান খান।

তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি আমরা খুবই হতাশ। ফলে কাঙ্ক্ষিত গতিতে মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে না। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ৯ রাজাকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক মো. সানাউল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

হাননান খান আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিচারাধীন। আমরা মনে করি, মানবতাবিরোধী অপরাধের আপিলের মামলাগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিচারাধীন অন্যান্য মামলার পাশাপাশি এসব মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ৯ রাজাকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে বিকেলে সংস্থার প্রসিকিউশন শাখায় তিনটি ভলিয়মে ১৮১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকালে ধানমণ্ডির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক। এই ৯ জন হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শ্রীমুখের মোফাজ্জল হক প্রধান ওরফে মোফা (৮২), নাসিরাবাদ কলোনির আবদুল করিম (৬৩), পলাতক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন ওরফে সরফ উদ্দিন খান ওরফে সাইফ উদ্দিন (৬৪), পলাতক সামছুল ইসলাম খান (৬৪), হামিদপুর চিত্তিপাড়ার সেকান্দার আলী (৬৬), মালেকাবাদ এলাকার ইসমাইল হোসেন (৭০), হরিপুরের আকরাম প্রধান (৬৮), পুনতাইড় আগপাড়ার হাফিজুর রহমান (৬৪) ও বামন হাজরার পলাতক আব্দুল মান্নান (৬৪)। তবে ৩ জন পলাতক। তাদের সবার বাড়ি একই উপজেলায়।

একাত্তরের ১০ মে থেকে একই বছরের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিরা কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর কাটাবাড়ি ও ৭ নম্বর কাটাবাড়ি গ্রাম এবং মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর ও বালুয়া গ্রামে অপরাধ সংঘটিত করে। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, আটক ও অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজাকার কমান্ডার মোফা একাত্তর সালে জামায়াতের নেতা হিসেবে গোবিন্দগঞ্জ থানার রাজাকার কমান্ডার নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আবদুল করিম ১৯৭১ সালে জামায়াতের কর্মী হিসেবে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। বর্তমানে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। শরীফ উদ্দিন, সামছুল ইসলাম খান, সেকান্দার, ইসমাইল, আকরাম, হাফিজার রহমান ও আব্দুল মান্নান একাত্তর সালে জামায়াতের কর্মী হিসেবে রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন। বর্তমানে তারা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে, সোমবার ৯ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।