ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে: ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক:   গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক নাগরিক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের জন্য শোক ও আহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

ড. কামাল বলেন, স্বাধীনতার অর্জনগুলো ধরে রাখতে সম্প্রীতির মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যকে বিনষ্ট করা সংবিধান সম্মত না।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিউজিল্যান্ডে যে ব্যক্তি হামলা চালিয়ে মুসলিমদের হত্যা ও আহত করেছে, সে ওই দেশের নাগরিক না; অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বা অন্যরা দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তারা তাদের দেশের নাগরিক ও অভিবাসী সবাইকে আপন করে নিয়েছেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে জীবিত ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলা হয়। এই জিরো টলারেন্সের মানে বিচারবহির্ভূত হত্যা। বাংলাদেশে ভিন্নমত পোষণকারীদের প্রতি সহিষ্ণুতা কম। উদাহরণস্বরূপ এখানে আহমদিয়াদের সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার শাহ্দীন মালিক বলেন, বিদ্বেষ, ঘৃণা, বিভাজন করে কোনো জাতি এগিয়ে যায় না। বাংলাদেশে রাজনীতিতে চলে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের বক্তব্য। কিন্তু একটি দুঃখজনক ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন রাজনীতিটা কী হওয়া উচিত।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপ্রিয়। কিন্তু দেশে গুম, খুন, ক্রসফায়ার তো চলছেই। আর সবচেয়ে নির্দয় ঘটনা ঘটছে রাস্তায়। বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে ফেলে হত্যা করা হচ্ছে। দুটি বাসের চাপায় পথচারী মারা যাচ্ছে। এ দেশে মানবতা চাষ করা হয় না; হিংসার চাষ হয়।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ূয়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।