মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ঠিক করতে হবে

সুমন দত্ত : মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাতে অনেকে বাদ পড়েছে। এদেরকে হিসাবের মধ্যে নিয়ে আমাদের শহীদের সংখ্যা ঠিক করতে হবে। ত্রিশ লক্ষ শহীদ হয়েছে এই বলে স্বীকৃতি দাবি করলে হবে না। প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধে শহীদ হয়েছে আরো অনেক।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেক্টর কমান্ডার ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ আয়োজিত গণহত্যা ১৯৭১: আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও স্বীকৃতি শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এদিন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক হারুন হাবীব।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে প্রাণহানি ঘটেছে। একে গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়া উচিত। জাতিসংঘ এখনো একে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দেয়নি। বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশগুলোর কাছে ঐতিহাসিক দলিল আছে। যেখানে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা কথা বলা হয়েছে।

এই গণহত্যা চলে ২৫ মার্চ রাত থেকে শুরু করে ৮ মাস ২ সপ্তাহ ৩ দিন পর্যন্ত। সম্প্রতি এক জরিপে ২০টি জেলাতে ৪০৪টি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধু ২৫ মার্চ রাতেই ঢাকাতে ১ লাখ লোক হত্যার শিকার হোন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবা কামাল বলেন, আজ দেশে যারা শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তারা কেন ১ কোটি শরণার্থীদের মধ্যে কোনো নিহতের সংখ্যা খুঁজে পান না। শরণার্থীদের মধ্যে বহু লোক নিহত হয়েছে। তাদেরকে এই ত্রিশ লাখের মধ্যে গণনা করা হয়নি। তারাও ৭১ এর শহীদ। মুক্তিযুদ্ধে অনেকেই বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে। এটা করা গেলে এই সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এ কাজ করতে হবে শাসক এই সরকারকে। কারণ এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তাদের গুরু দায়িত্ব এ কাজ করা।

সেমিনারে এদিন আরো উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক ম হামিদসহ অন্যরা।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪ডটকম