আজ মাঠে নামছে স্পেশাল টাস্কফোর্স

নিউজ ডেস্ক:  কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে পুলিশ সদস্যরা যখন ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহের কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তখন এর আনুমানিক দেড়শ’ গজ দূরে পেট্রো সেন্টারের সামনের সড়ক দখল করে চারটি ভাঙাচোড়া মাইক্রোবাস যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেল।

ঢাকা মহানগরের সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ১৭ মার্চ থেকে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ শুরু করে পুলিশ। গতকাল ছিল এ কার্যক্রমের শেষ দিন। এদিনও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, গত সাত দিন সমকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সরেজমিনে সেই আগের চিত্রই দেখতে পেয়েছে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সড়ক দখল করে লেগুনা, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড আগের মতোই রয়েছে। যাত্রী তুলতে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতাও রয়েছে বাসগুলোর।

গতকাল ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ কার্যক্রম শেষ হলেও আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার নামানো হচ্ছে পুলিশের বিশেষ টিম। এই টিমের নাম দেওয়া হয়েছে স্পেশাল টাস্কফোর্স। মাসব্যাপী টাস্কফোর্সের সদস্যরা ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন। এরই মধ্যে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি ট্রাফিকের সব বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ডিএমপির চারটি বিভাগে স্পেশাল টাস্কফোর্সের চারটি টিম। একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে প্রতি টিমে সদস্য থাকবেন ১০ জন। নির্দিষ্ট বিভাগে এই টিম ঘুরে ঘুরে কার্যক্রম চালাবে। আজ রোববার থেকে বিশেষ এই টিম নামছে রাজধানীতে।

গতকাল ডেমরার মাতুয়াইল এলাকার শামছুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রোববার থেকে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি পরিবহন ইন্টারসেকশন রুটে পুলিশের বিশেষ টিম নামানো হবে। বিশেষ এই টিম রাস্তায় গাড়ির পাল্লাপাল্লি রোধ, যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা ও কৃত্রিম যানজট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি (পশ্চিম) লিটন কুমার দাস মাসব্যাপী স্পেশাল টাস্কফোর্স নামানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ চলাকালে ১৭ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ছয় দিনের ট্রাফিক বিভাগ এক কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ২১৪ টাকা জরিমানা এবং ৪১ হাজার ৫৩৭টি মামলা করেছে। এছাড়া ২৭১টি গাড়ি ডাম্পিং ও চার হাজার ৭৮৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। গতকাল ট্রাফিক শৃঙ্খলা কার্যক্রম চলমান থাকায় এ দিনের মামলার হিসাব পাওয়া যায়নি।

ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহের শেষ দিনের কী অবস্থা, কতটুকু ফিরল শৃঙ্খলা, সেই চিত্র তুলে আনতে গতকাল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় ঘুরে যা পাওয়া গেল, তা শৃঙ্খলার কাছাকাছিও নেই। তবে মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে সচেতনতা ফিরেছে। তারা হেলমেট মাথায় দিয়েই মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়ানো, যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গাড়ির স্ট্যান্ড বন্ধ হয়নি। হাতিরঝিলে চলাচল করা মাইক্রোবাসের বড় স্ট্যান্ড কারওয়ান বাজারে। ফার্মগেটে সেই লেগুনা স্ট্যান্ড বহাল তবিয়তেই রয়েছে।