ইশা‘ আতুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার ভবিষ্যত  উজ্জ্বল- হাফেজ ক্বারী মীর মুহা: মাহমুবুর রহমান জিহাদী ইশা‘ আতুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান। তিনি হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ দিন  যাবত কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি অন্যান্য সংগঠনের ন্যায় তার গড়া সংগঠন ইশা‘ আতুল কোরআন ফাউন্ডেশন কর্তৃক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও সমসাময়িক মাদ্রাসা শিক্ষার উপর শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার আগ্রহ প্রসঙ্গে সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ঢাকানিউজ২৪.কম-এর বিশেষ প্রতিনিধি, মোহা: খোরশেদ আলম।

ছবি: হাফেজ ক্বারী মীর মুহা: মাহবুবুর রহমান

১। ইশা‘আতুল কোরআন-এর অর্থ কি?
উ: ইশা‘আতুল কোরআন-এর অর্থ পবিত্র কোরআনের প্রচার বা প্রসার।

২। এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ভবিষ্যতে কোরআনের প্রচার-প্রসারে আপনার চিন্তা-চেতনা কি?
উ: ক্ষুদে হাফেজদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গড়ে তোলা ও পরিচিতি ঘটানোর জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে  কেন্দ্রীয়ভাবে তুলে আনা ।

৩। হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা এবার বেশ কয়েকটি জেলা সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখান থেকে আপনারা কেমন সাড়া পেলেন?
উ: আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনেক সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরো সাড়া পাব ইনশাল্লাহ্।

৪। ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলা-উপজেলা এসব অনুষ্ঠান করার চিন্তা-ভাবনা আছে কি?
উ: আগামী বছর থেকে প্রথমে প্রতিটি থানা পর্যায়ে বাছাই শেষে বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে ফাইনাল অডিশনে কাজ করব ইনশাল্লাহ।

৫। আমার জানামতে আপনি একটি মাদ্রাসা চাকুরি করেন এবং একটি মাদ্রাসা নিজে পরিচালনা করেন। এতো ব্যস্ততার মাঝে এসব সংগঠনের কাজ করা সম্ভব হয়ে কিভাবে?
উ: জ্বি! আপনি ঠিকই বলেছেন। যদিও কষ্ট হয় তারপরও কুরআনের প্রতি দরদে ও ছোট্র বাচ্চাদের প্রতি আমার বিশেষ দূর্বলতার কারণে আমার কাজ করার উতসাহ বেড়ে যায় এবং মেধাহীন বাচ্চাদের আনন্দের সাথে অন্যসব বাচ্চাদের সহিত আনন্দ ভাগাভাগি করে দিতে পারাটা নিজেকে আমাকে ধন্য মনে করি এবং উতসাহ ও আনন্দবোধ করি।

৬। এবার একটি অন্যরকম প্রশ্ন করব, বর্তমানে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত লোকের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করতে আসছে। এব্যাপারে আপনার মতামত কি?
উ: বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত এবং খোদাভীরু। তাই তারা বর্তমানে বুঝতে পারছেন, স্কুলের লেখাপড়া শুধু দুনিয়াতে কল্যাণকর কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা দুনিয়ার সফলতার পাশাপাশি আখেরাতের মুক্তি বা কল্যাণের বিশ্বাসী ও ধর্মভীরু মানুষ মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হচ্ছেন।

৭। আমরা কিছু কিছু মাদ্রাসাগুলোতে লক্ষ্য করি, শিক্ষকরা ছেলেমেয়েদের উপর শাসন নামে যেভাবে শিশুদের উপর নির্যাতন করেন, তা  শিশু নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে, এর প্রতিকার কি?
উ: আমার মতে, এটি ঘৃণিত ও জঘন্য অপরাধ। প্রত্যেক শিক্ষার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সময় তাদের নিজের ছেলেমেয়ে মনে করে শিক্ষা দিতে পারলে এধরণের অনাকাংখিত ঘটনাগুলো ঘটবেনা।

৮। আর একটি বিষয়, কিছু কিছু মাদ্রাসায় যে হারে বেতন নেওয়া হয়, সেভাবে তাদের খাবারের মান হয়না। ফলে অনেক অভিভাবকে এসব অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসাগুলো থেকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ এই দায় এড়াতে পারেন?
উ: প্রতিটি ক্ষেত্রে আয় বুঝে ব্যয় করা। সুতরাং বেশি টাকা গ্রহণ করে খাবারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কম দেওয়া এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আর এটি সত্যি সত্যি কোন প্রতিষ্ঠানে ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

৯। সারাদেশে যেসব সম্মানিত হাফেজ সাহেব প্রতিযোগিতা করে ফাইনালে উন্নীত হয়ে তাদের সর্বশেষ আযোজনটি বায়তুল মোকারমের ইসলামিক মিলনায়তনে আগামী ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এব্যাপারে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন? উক্ত অনুষ্ঠানে কোন কোন অতিথিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে?
উ: আলহামদুলিল্লাহ আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে, বাকী প্রস্তুতি এ কয়েকদিনের মাঝে সম্পন্ন হবে ইনশাল্লাহ্। আমাদের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠানে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মো: শামীম আফজালসহ সরকারি বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিদেশী মেহমান উপস্থিত থাকবেন।

১০। অন্যান্য হিফজুল প্রতিযোগিতাদের সাথে আপনাদের হিফজুল প্রতিযোগিতার মধ্যে পার্থক্য বা বিশেষত্ব কি?
উ: আসলে কুরআনের প্রচার-প্রসারের সকলের কাজই প্রায় অভিন্ন। তবে আমরা এক্ষেত্রে একটু সংযুক্ত করার চেষ্টা করেছি। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের পাশাপাশি দূর্বল মেধার ছাত্র/ছাত্রীদেরও এসব প্রতিযোগিতায় এনে তাদের উদ্বুদ্ধ করা।

১১। সর্বশেষ প্রশ্ন, এতবড় আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন কিভাবে?
উ: কোরআনের প্রতি অনেকেই অনুরাগী। সেসব ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের উতসাহে এবং তাদের পৃষ্টপোষকতায় এতবড় আয়োজন করা সম্ভব হয়।