চাকসু: পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি

নিউজ ডেস্ক:    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এবার গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিটি গঠনের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মোহাম্মদ সফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নির্বাচন ও বিধিবিধান) মোহাম্মদ ইউসুফকে। এর সদস্য হয়েছেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ ও সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ ২৯ বছর চাকসু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংগঠনগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিল। নেতৃত্বের বিকাশে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই গত বুধবার হল প্রভোস্ট ও প্রক্টরকে নিয়ে করা সভায় চাকসু নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে চাকসুর যে নীতিমালা রয়েছে সেটি অনেক পুরনো। তাই নীতিমালাটি যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা গঠনের পর সেটি প্রতিবেদন আকারে সিন্ডিকেটে পাঠানো হবে। এর পর নির্বাচনের অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে হলের প্রভোস্টরা কাজ শুরু করেছেন। হলে বহিরাগত ও অবৈধ শিক্ষার্থী আছে কি-না, খতিয়ে দেখছেন তারা। এসব তালিকা হালনাগাদ করে দেখা হবে।’

কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘মৌখিকভাবে কমিটির গঠনের কথা আমাকে জানানো হয়েছে। রোববার চিঠি হাতে পেলে সদস্যদের নিয়ে কাজ শুরু করব। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নীতিমালা সংগ্রহ করব আমরা। পরে চাকসুর একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করব।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। চবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচনে আমরা যেসব ত্রুটি দেখেছি, সেগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুনজর দিতে হবে।

চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, ‘প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। অচিরেই ছাত্র সংগঠগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই চাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে ডাকসুকে অনুসরণ করার জন্য।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। ওই নির্বাচনের সময় দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সর্বশেষ গত ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানান বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থী ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।