জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

নিউজ ডেস্ক:  সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও লেখক জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমিনুন নেসা মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি ) মাসুক আহমদ জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ২৫ এপ্রিল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত। এ মামলায় ৫৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাদীর সাক্ষ্য নেওয়ার সময় হামলার মূলহোতা ফয়জুল হাসানসহ ছয় আসামি উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন-ফয়জুলের বন্ধু সোহাগ মিয়া, বাবা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, মামা ফজলুল হক ও ভাই এনামুল হাসান।

২০১৮ সালের ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় মাদ্রাসা ছাত্র ফয়জুল হাসান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল ওই দিন রাতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর থেকে এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।

এর আগে ২৬ জুলাই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )শফিকুল ইসলাম।

এপিপি মাসুক আহমদ বলেন, ‘হামলার সঙ্গে জড়িত বলে ফয়জুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ফয়জুল জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে পাওয়া মেমোরি কার্ডে জসিম উদ্দিন রহমানী, তামিম ইল আদরানী ও অলিপুরী হুজুরের ওয়াজ শুনে জিহাদের ব্যাপারে প্রভাবিত হন ফয়জুল। এ ছাড়া জসিম উদ্দিন রহমানীর লেখা ‘উন্মুক্ত তরবারী’ বই ও তিতুমীর মিডিয়ার ভিডিও দেখে ফয়জুলের ধারণা হয় জাফর ইকবাল একজন ‘নাস্তিক’। এই ধারণা থেকে ফয়জুল নিজেই জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার বিভিন্ন স্থির চিত্র, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন ক্লোজড সার্কিট (সিসি)ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ফয়জুল নিজেই জাফর ইকবালকে হত্যার জন্য আঘাত করেন বলে পুলিশের তদন্তেও উঠে এসেছে।’