ইরাক আক্রমণ দিবস ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বে বাংলাদেশ

মোহা: খোরশেদ আলম: সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক ঐক্য আয়োজিত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ র্মাচ ১৭তম ইরাক আক্রমণ দিবস সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এআইডিইউ এর সমন্বয়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এর সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.)ডা: এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিপ্লবী সভাপতি খলিলুর রহমান, জাতীয় গনতান্ন্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সম্পাদক বিপ্লবী নেতা প্রকাশ দত্ত প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, `সাম্রাজ্যবাদ মানেই যুদ্ধ‘। ফলে দেখা দিচ্ছে বাজার ও প্রভাব বলয় পূনর্বন্টন, জ্বালানির উ৭স, রাজনীতিগত রুট, ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্র্ন এলাকাসমূহ নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রতিযোগিতা। এখন পর্যৃন্ত একক পরাশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার বৈশ্বিক আগ্রাসন চালিয়ে প্রতিপক্ষের অগ্রসরমানতা বাধা দিতে সচেষ্ট। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের নামে দেশে দেশে আগ্রাসন ও দখলের কাযর্ক্রম চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে তাদের সেনা উপস্থিতির তথ্য দিচ্ছে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম। অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও বৃহত সাম্রাজ্যবাদে পরিণত হওয়ার লক্ষে অগ্রসরমান পুঁজিবাদী চীন মাকিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী মিত্রদের মোকাবেলা করে স্বীয় বাজার ও প্রভাব বলয় সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ২০০৩ সালে সাম্রাজ্যবাদী ইঙ্গ-মার্কিন কর্তৃক একতরফাভাবে ইরাক আক্রমণ, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুমালিয়া, সুদান তার ধারাবাহিকতা এবং বতর্মানে ভেনিজুয়েলার প্রতি অশুভ নজর পড়েছে। বক্তারা আরো বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব  এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতৃ এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে নিয়ে আন্ত:সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বর্তৃমান পরিস্থিতিতে যেমন একদিকে বৈশ্বিক মন্দা ও ধ্বংসের কথা বলা হচ্ছে, তেমনি মুদ্রাযুদ্ধ, বাণিজ্যযুদ্ধ, দ্বিতীয়-শীতলযুদ্ধ, স্থানীয়যুদ্ধ, আঞ্চলিকযুদ্ধ ইত্যাদির ধারাবাহকতায় ‘আরেকটি বিশ্বযুদ্ধে’র প্রসঙ্গ সামনে আসছে।
এ অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সরকার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রমের ততপরতা লক্ষ্য করা যায়- সরকার ও তার বিশ্বসংস্থা ব্যাংক, আইএমএফ-এর নীতি নির্দেশ কার্যকরী করে চলেছে। দারিদ্র দূরীকরনের নামে এমডিজি(MDG) এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এসডিডি(SDG) পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সামনে আনছে। ফলে সাম্রাজ্যবাদী ঋণের জালে আবদ্ধ দেশ আরও গভীর সংকটে নিপতিত হচ্ছে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে নয়া ঔপনেবেশিক-আধাসামন্তবাদী ভারতের ‘লেমোয়‘ (Logistic exchange memorandum of agreement) চুক্তির প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ও সমঝোতা করে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির প্রয়োজনে সামগ্রিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে, ইন্দো-প্যাসিফিক করিডোর পরিকল্পনা, বে-অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগ, ’চীনের এক বলয় এক পথ’ পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে বিসিম অর্থনৈতিক করিডোর প্রক্রিয়া, সাম্রাজ্যবাদদের দালাল ভারতের বিশেষ স্বার্থ ও সুবিধা হাসিলের জন্য সড়ক ও রেলপথ, নদীপথ, সমুদ্র ও নদী বন্দর অবাধ ও সর্বাত্বক ব্যবহারে করিডোর পরিকল্পনা অগ্রসর করে চলেছে। তাই প্রয়োজনে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালদের উচ্ছেদ করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সরকার, রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা সংগ্রামকে বেগবান করা। বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪.কম