দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরী

সুমন দত্ত: দেশ থেকে দুর্নীতি উৎখাতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছে ব্যারিস্টার এন্ড এডভোকেট রুল এসোসিয়েশন নামে আইনজীবীদের একটি সংগঠন। দুর্নীতি না কমলে আগামীতে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন তারা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি কক্ষে এ নিয়ে তারা একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। দেশের বেশ কয়েকটি খাতের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন তারা।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট নাসরিন আক্তার। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার বখতিয়ার আহমেদ রনী।

বখতিয়ার আহমেদ রনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত, ভূমি খাত সব দুর্নীতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো জনগণকে লোন দেয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে। ভূমির দুর্নীতি আরো ভয়াবহ। আপনার কেনা জমি অন্যের নামে নামজারী হয়ে আছে। ভূমির সংশ্লিষ্ট লোকজন এসব কাজে সহায়তা না করলে এগুলো কীভাবে হয়।

আইনের সহায়তাদানকারী পুলিশ জনগণকে সেবা দেয় না। জিডি করতে পয়সা লাগে না। তারপরও পুলিশকে টাকা না দিলে জিডি নেয় না।  আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ এফআইআর করে না। ব্যক্তিকে আদালত হয়ে মামলা করতে হয়। আদালতে ভুয়া আইনজীবী দৌড়াত্ব বেড়ে গেছে। এদের দমন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যে মন্ত্রীকে দেয়া হয়েছে তাকে দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি থাকলে ভূমি অফিসের চেহারা একরকম। তিনি চলে গেলেই সেই অফিসের চেহারা আরেক রকম ধারণ করে। কতিপয় ভূমি দস্যুর দৌড়াত্ব বেড়ে গেছে। এরা হচ্ছে বসুধা বিল্ডার্স, রুপায়ন, স্বদেশ। এরা প্রভাবশালী ডেভেলপার।

ব্যাংকগুলোতে গেলে দেখা যায় ৯ টায় কাজ শুরু হলেও চেয়ারগুলো খালি পড়ে আছে। ১১ টা বাজেও ব্যাংকগুলো চালু হয় না। এভাবে কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক চলতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এসব ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি নজর না দিলে কেউ এসব বিষয়ের সমাধান দিতে পারবেন না।

ঢাকানিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ব্যারিস্টার বখতিয়ারকে প্রশ্ন করেন ভূমিদস্যু হিসেবে আরো অনেকে পরিচিত ছিল তাদের নাম কেন আসেনি আপনাদের প্রতিবেদনে। জবাবে তিনি বলেন, তাদের কাছে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের নামই প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদের কথা তিনি শুনেছেন কিন্তু অভিযোগ পাননি। ভুয়া আইনজীবী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে অ্যাডভোকেট নাসরিন আক্তার বলেন, সিনিয়রদের সঙ্গে প্রাকটিস করতে করতে এসব শিক্ষানবিশ আইনজীবী নিজেদেরকে আইনজীবী দাবি করে। পরে এদেরকে ধরা হয়। এজন্য আদালতে টাউট ধরার কমিটি আছে। তারা কাজ করছে।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪ডটকম