বঙ্গবন্ধু সংবিধানের শুরুতে বলেছেন রাষ্ট্র হবে গণতান্ত্রিক: ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক:   অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যারা ‘বাধা’ সৃষ্টি করে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ‘আনুগত্য নেই’ মন্তব্য করে তাদের একঘরে করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গণফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তার এমন মন্তব্য আসে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, “অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন এটা সকলেরই দাবি; এ নিয়ে কোনো বির্তক নাই এখন। এটা হচ্ছে কি? হচ্ছে না। পাড়ায় মহল্লায় দেখেন- কারা এটা হতে দিচ্ছে না।

“আমি মনে করি, যারা হতে দিচ্ছে না বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আনুগত্য নেই। তারা উনার কথাকে অমান্য করাচ্ছে। এদেরকে চিহ্নিত করে সবাই মিলে তাদেরকে একঘরে করা দরকার।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে যায় কামাল হোসেনের দল গণফোরাম।

২৯ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে ভরাডুবির পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে নতুন নির্বাচনের দাবি জানায়।

ড. কামাল হোসেন বলেন, “এরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে অমান্য করছে। উনার (বঙ্গবন্ধু) যে স্বপ্নের বাংলাদেশ, সেটাকে বাস্তবায়িত করার পথে বাধার সৃষ্টি করছে। দেশকে বাঁচাও, রুখে দাঁড়াও এদের বিরুদ্ধে।”

দেশের ১৬ কোটি মানুষ ‘ইতিবাচক ঐক্য’ চায় মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, “যারা ঐক্য দেখে ভয় পায়, তারেই বলছে দেশের মানুষ বিভক্ত। আমি বলব, চারিদিকে তাকিয়ে দেখেন। আমি বলব, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে একটা বৃহত্তর ঐক্য বিরাজ করছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে কামাল বলেন, “বঙ্গবন্ধু সংবিধানের শুরুতে বলেছেন রাষ্ট্র হবে গণতান্ত্রিক। প্রথমেই প্রশ্ন হবে যে ষোল আনা গণতন্ত্র কী আমাদের দেশে চলছে?

“অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন- এটাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব উনি (বঙ্গবন্ধু) দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলে সেই অধিকারকে রক্ষা করার জন্য। আমাদের দেশে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন কী হচ্ছে?

“বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল সেটাকে সামনে রাখি। সংবিধানের পাতা খুলে দেখি, সেই স্বপ্ন কী ছিল। গণতন্ত্র আছে কি না? ভোট ঠিকমত সবাই দিতে পারছে কি না? আইনের শাসন আছে কি না?”

সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা এ সময় সমস্বরে ‘না-না’ বলে উঠলে কামাল বলেন, “আমি আনন্দবোধ করতাম যদি ইতিবাচক উত্তর পেতাম। যদি হ্যাঁ-হ্যাঁ উত্তর পেতাম।”

নির্ভেজাল গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন- এসব প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশের মানুষ অনেক মূল্য দিয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়েছেন মন্তব্য করে সাবেক আওামী লীগ নেতা কামাল বলেন, “আমার প্রশ্ন হল, এত মূল্য দেওয়ার পরেও এটা কেন আমরা ভোগ করতে পারছি না?”

সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে সত্যিকারভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, আমরা সবাই আজকে শপথ নেব। উনি যেসব কাজের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, সেই দায়িত্ব পালন করার জন্য আমরা নিজের দায়িত্বকে উৎসর্গ করব। সত্যিকার অর্থে আমরা যেন ষোল আনা গণতন্ত্র ভোগ করতে পারি।”

গণফোরামে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহসিন রশিদ এ অনুষ্ঠানে কামাল হোসেনের হাতে ফুল তুলে দিয়ে গণফোরামে যোগ দেন। কামালও তাকে দলে বরণ করে নেন।

মোশতাক আহমেদের পরিচালনায় এ আলোচনা সভায় মফিজুল ইসলাম খান কামাল, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, আবু সাঈয়িদ, রেজা কিবরিয়া, মোকাব্বির খান, আমসা আমিন, জগলুল হায়দার আফ্রিক, সিরাজুল হক ও বাবলী আখতার বক্তব্য দেন।