ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:    বিশ্বের কোথাও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদহার হিসাব করা হয় না। বাংলাদেশেও ব্যাংক ঋণের সুদহার হিসাবের ক্ষেত্রে আগামীতে চক্রবৃদ্ধি প্রথা থাকবে না। সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। রোববার ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকে যে প্রক্রিয়ায় পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে তা থাকবে না। ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে তাকে কমপক্ষে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে আসতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আগামী বাজেটের আগে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ বলে জানানো হয়। বৈঠকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিচালকদের আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। বৈঠকে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিদ্যমান ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা সহজ করতে হবে। ডাউনপেমেন্ট ও মেয়াদের শর্ত শিথিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে সময় বাড়াতে হবে। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে জানানো হয়, এ দাবিগুলোর বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবে চলতে পারে না। যেভাবে পর্ষদ গঠিত হচ্ছে, এটাও হতে পারে না। এখানে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সত্যিকারভাবে যারা ব্যাংকিং বোঝে তাদের পর্ষদে নিয়োগ দেওয়া হবে। চাকরি নেই বলে একটি ব্যাংকের পরিচালক বানিয়ে দিলাম, সেটা আর হবে না। এ জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে। আগামীতে পরিচালক করার আগে যারা প্রকৃতভাবে কাজ করতে পারবেন, ব্যাংকিং, হিসাববিজ্ঞান বা আইন বোঝেন, তাদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে সুপারিশ নিয়ে আমার কাছে আসবেন না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি আছে। এটা পাঁচ বা সাত বছরে হয়েছে তেমন না। অনেক আগে থেকে বাড়তে বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে। এটা পরিস্কার করার জন্য এখন হাত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যালেন্সশিটে কী পরিমাণ সম্পদ দেখানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা জানার জন্য এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যাংকে বিশেষ অডিট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ অডিটের মাধ্যমে জানা যাবে, যারা ঋণ নিয়েছে তাদের মধ্যে ভালো গ্রাহক কারা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কারা। ভালো ব্যবসায়ীদের সরকার সহযোগিতা করবে। খারাপদের সঙ্গে আপস করা হবে না। যেভাবেই হোক সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথাও বলেন, যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা ১০ জনকে চাকরি দিতে পারেন না। আর ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নেন তারাই দেশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাংকিং খাতকে সাজানো। আগামী বাজেটে সেসব বিষয় আনা হবে। এ ছাড়া কোনো একজনের একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে একটার সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মিল করা যাবে না। একটা প্রতিষ্ঠানের কারণে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো যে অন্যায়গুলো করা হচ্ছে, তা আর হবে না।

ব্যাংক খাতের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক দেশেই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। ব্যাংক একেবারে খারাপ হলে অর্থনীতি এভাবে এগোত না। সুতরাং ব্যাংক নিয়ে যা শোনা যায়, সব সঠিক না। এখানে হিসাবায়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। আবার কিছু ক্রটি-বিচ্যুতিও আছে। অর্থায়ন সমস্যার সমাধানে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে। বন্ড মার্কেটে ভালো ব্যবস্থা থাকলে অর্থায়নে কোনো সমস্যা হতো না। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হয় না বলেও জানান তিনি।

তার মতে, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ৬২টি ব্যাংক আছে। এটা বেশি না। কেননা, এখানকার বেসরকারি সব ব্যাংকের বিনিয়োগের সমান দেশের বাইরে একটি ব্যাংক। সুতরাং সংখ্যা বড় বিষয় না। যদি ঠিকভাবে চালানো যায় কোনো সমস্যা না। এ ছাড়া শস্যবীমা চালু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পে অর্থায়নে আগামী বাজেটে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।