বঙ্গবন্ধুর দেয়া সংজ্ঞার বাইরে কেউ মুক্তিযোদ্ধা না

সুমন দত্ত: বঙ্গবন্ধুর দেয়া মুক্তিযোদ্ধার  সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে যারা  নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায়ন করে তাদের সেই পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার কথা যুক্ত করতে হবে।এতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সাংবিধানিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। তা না হলে যে যার মত মুক্তিযোদ্ধা সেজে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অবমাননা করবে। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন তার বাইরে গিয়ে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবেন না।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও তাদের মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় মূল বক্তব্য পেশ করেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার চেয়ারম্যান লেখক গবেষক আবীর আহাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৩নং সেক্টর ও এস ফোর্সের কমান্ডার সাবেক সেনা প্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ (অব:) বীর উত্তম। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য  অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক, আশালতা বৈদ্য, মো:মোজাফফর হোসেন চাঁদ, মো: হাবিবুর রহমান।

সভায় বক্তারা বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। যে কারণে অনেকে মুক্তিযুদ্ধকে ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ,ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বিভিন্নভাবে ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগ পাচ্ছে। অ-মুক্তিযোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা এমনকি রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা বনে গিয়ে রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান  মুক্তিযোদ্ধার একটি সংজ্ঞা দিয়েছিলেন। যা ছিলো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা।  বঙ্গবন্ধুর সেই সংজ্ঞাটি ছিল এমন:  Freedom fighter means any persons who had served as a member of any force engaged in the war of liberation. এই সংজ্ঞা অনুসারে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দেড় লাখের বেশি না। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি জামাত ও আওয়ামী লীগ আমল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সংজ্ঞা পাশ কাটিয়ে গোঁজামিলের সংজ্ঞা দিয়ে সরকারি ভাবে মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারে উন্নীত করে। অবিলম্বে এসব তামাশা বন্ধ করার দাবি জানান বক্তারা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার আর্জি জানানো হয়। আর অমুক্তিযোদ্ধাদের  তালিকা থেকে বাতিল করে কঠোর সাজার বিধান করার দাবি জানান তারা। 

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪ডটকম