চাটমোহরে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা বনাম বিদ্রোহীরা

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা: আগামী ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে পাবনার চাটমোহরে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরকার বিভক্তি প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দি এবার আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী। ভোটাররা বলাবলি করছেন চাটমোহর নৌকা বনাম বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি সবার জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ফলে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দলের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমুলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। এমন বিভেদ চলতে থাকলে নির্বাচনের আগে ও পরে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জনসহ মোট ১৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সাখোওয়াত হোসেন সাখো তিনি নৌকা প্রর্তীকে মনোনয়ন পেয়েছেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল হামিদ মাস্টার (ঘোড়া) প্রতীক, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবু হায়াত মো. কামাল জুয়েল ( আনারস), উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আলীম ( দোয়াত-কলম) প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে এ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার (লাঙ্গন) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এর আগে তিনি উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে পরাজিত হন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন না পেলেও দল তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছে।
এদিকে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব আবদুল হামিদ মাস্টার দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে গেছেন। জাতীয় নির্বাচনে তিনিও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি কর্মী সভার মধ্যে দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দেন। তিনি বলছেন, সাধারণ মানুষ ও দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে নির্বাচনের জন্য বারবার অনুরোধ করেছেন।

অপরদিকে চাটমোহর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবু হায়াত মো. কামাল জুয়েল বিগত জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচনে সদস্য পদে হেরে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনিও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন। অন্যদিকে পরিচিত মুখ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল আলীম সবার নজর কাড়ছেন। দীর্ঘদিন উপজেলা ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও কেবল আওয়ামীলীগের নেতারাই অংশ নিচ্ছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইসাহাক আলী মানিক (চালা), মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম (মাইক), আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল ইসলাম (টিয়া পাখি), উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম (টিউওবয়েল), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সোলায়মান হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা) ও পৌর তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান পান্না (চশমা) প্রতীকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন প্রভাষিকা ফিরোজা পারভীন (ফুটবল), ডিবিগ্রাম ইউপি সদস্যা আফরিনা আক্তার লিলি (কলস), আওয়ামীলীগ নেত্রী দেলোয়ারা হালিম ( হাঁস)।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।