কোটা আন্দোলনের নুর ডাকসু ভিপি, জিএস গোলাম রাব্বানী

নিউজ ডেস্ক:  বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তিনি ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করেন। নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তবে জিএস, এজিএসসহ ডাকসুর বেশিরভাগ পদে ছাত্রলীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। জিএস পদে গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে সাদ্দাম হোসাইন বিজয়ী হন। ভিপি ছাড়াও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের আখতার হোসেন জয়লাভ করেন।

সোমবার রাত ৩টা ২৪ মিনিটে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। ঘোষণার আগে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু সার্বিকভাবে নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে গণতান্ত্রিক রীতি মেনেই হয়েছে। তিনি প্রথমেই ভিপি পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হককে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে জিএসসহ অন্যান্য পদে ছাত্রলীগ প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা আসতে থাকলে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হয়। সার্বিক ফল ঘোষণার পর উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রেখে ভিপি পদের ফল পুনর্বিবেচনার দাবি জানাতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল নির্বাচনের দিনও বেগম রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের নারীকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ছাত্র সংরক্ষণ অধিকার পরিষদসহ আরও তিনটি প্যানেল একযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারা ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিক্ষোভ সমাবেশেরও ঘোষণা দেয়। ভোট বর্জনের পর শুধু ছাত্রলীগের প্যানেলই নির্বাচনে থেকে যায়। এর ফলে সবার মধ্যে ধারণা ছড়িয়ে পড়ে, ডাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে জয় পাবে ছাত্রলীগ। কিন্তু গভীর রাতে ভোটের ফলে নুরুল হকের জয়লাভের ঘোষণা নতুন চমক নিয়ে আসে।

ডাকসুতে নির্বাচিত অন্যরা হলেন : মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সম্পাদক সাদ বিন কাদের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিলা অর্ণি, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন (স্বতন্ত্র), ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস ই নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর এবং সদস্যরা হলেন যোশীশ সাংমা (চিবল), নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাকিব, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, ফরিদা পারভীন, নিপু ইসলাম তন্বী, সবুজ তালুকদার, তিলোত্তমা শিকদার, সাইফুল ইসলাম রাসেল ও মাহমুদুল হাসান।

নির্বাচনে ১৮টি হলের মধ্যে ভিপি পদে ছাত্রলীগের ১২ জন ও স্বতন্ত্র ৬ জন বিজয়ী হয়েছেন। জিএস পদে ছাত্রলীগের ১৪ ও স্বতন্ত্র ৪ জন জয়ী হয়েছেন।