ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণে ধীরগতি

নিউজ ডেস্ক:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভোট দিচ্ছে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী। সকাল আটটায় ভোট শুরু হয়। একটানা বেলা দুইটা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২৮ বছর পর হচ্ছে বহু প্রতীক্ষার এ নির্বাচন।হল কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের লম্বা লাইন থাকলেও ভোট গ্রহণ চলছে ধীরগতিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রে ভোটার প্রবেশে ধীরগতি রয়েছে। তবে পরিচয়পত্র দেখে দেখে ভোটারদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভোটার শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজু বলেন, ৪০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো ভোট দিতে পারিনি। ভোটের পরিবেশ ভালো ও শান্ত। তবে ভোটগ্রহণে সময় বেশি লাগছে।

ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নূরুল হক নূর শহীদুল্লাহ হলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, একটি ছাত্র সংগঠন যারা হলে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে, তাদের নেতৃত্বে ভোটার ছাড়াও অন্যদের দিয়ে দীর্ঘ জটলা তৈরি করে রেখেছে। তাদের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে জটলা সৃষ্টির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের একটি লাইন থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক বাড়তি মানুষ প্রশাসনের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করছে।

স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্র ইউনিয়নের এজিএস প্রার্থী মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে ভোট দেওয়ার জায়গা দেখছি না লাইনের সবাইকে রোবট মনে হচ্ছে। যেন আরেকজন চালাচ্ছে এরকম মনে হয়।’

বিজয় একাত্তর হলে ভোট দিয়ে বের হয়ে এসে প্রগতিশীল ছাত্রঐক্যের ব্যানার থেকে সংস্কৃতি সম্পাদক প্রার্থী এস এম লতিফুল খাবির বলেন, ভোট নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো সমস্যা দেখেননি। তবে ৩৮টি (ডাকসু ও হল সংসদ মিলে) ভোট দিতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগছে বলে তিনি জানান। এ কারণে বেলা দুইটার মধ্যে সব ভোটারের ভোট নেওয়া শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।

এদিকে সোমবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন শুরু হলেও রোকেয়া হলে এক ঘণ্টা দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সালমা আক্তার বলেন, ‘কিছু জটিলতার কারেণ নির্ধারিত সময়ে ভোট শুরু হয়নি।’

ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুল হক অনিক বলেন, ‘কী কারণে ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয়েছে আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’