কুলাউড়াবাসী যোগ্য অভিভাবক সুলতানের অভাবে দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: একজন যোগ্য নেতা, সহজ ভাষায় বললে একজন যোগ্য অভিভাবকের অভাবে কুলাউড়াবাসী দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত। একথা সর্বজন স্বীকৃত। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কুলাউড়াবাসী যে উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছিলো এরপর আজ অব্দি তার ধারে-কাছে কোন উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। কুলাউড়া উপজেলার যেদিকে তাকাবেন, দেখবেন এক অসহায়ত্ব, করুণ দশার চিত্র। পাকা সড়কগুলো ভেঙ্গে খানাখন্দে ভরপুর, আধা-পাকা সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ঝরাঝীর্ণতা, পুল-কালভার্ট সংস্কার নাই, এমন অনেক অসঙ্গতি। এ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল উন্নয়নের দৈণ্যদশার কথা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করার মতো একজন অভিভাবক শূণ্যতায় হাহাকার করছিলো কুলাউড়াবাসী।

আমি অস্বীকার করছি না কুলাউড়ার উন্নয়ন হয় নি। তবে যে উন্নয়নের বরাদ্দ কুলাউড়ার জন্য এসেছিলো এর বৃহৎ অংশে পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি মহলের পকেট ভারী হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে কাবিখাসহ বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা নামে-বেনামে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। সরকারের টাকা গেছে নেতাদের পকেটে আর সাধারণ মানুষ হয়েছে উন্নয়ন বঞ্চিত। কুলাউড়ার বেশীরভাগ মানুষ এসব বিষয়ে জ্ঞাত, অনেকসময় প্রতিবাদীও হয়েছিলেন। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু, রক্ষকরাই ভক্ষক হয়েছিলেন বিচার করবে কে?

৯৬-২০০১ সালের কুলাউড়ার সেই উন্নয়নের বরপুত্র, তৎকালীন সাংসদ, সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ আবারো সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ১০ মার্চ তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। উনাকে অভিবাদন ও শুভেচ্ছা। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর দল-মত নির্বিশেষে কুলাউড়াবাসীর দাবী ছিলো উনি সংসদে গিয়ে কুলাউড়ার প্রতিনিধিত্ব করুণ। দীর্ঘ কয়েক বছরের উন্নয়নের বন্দিদশা হাপিতেশ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াবার জন্য কুলাউড়াবাসীর মনে এবার আশা জেগেছে। কুলাউড়াবাসীর দাবী অনেক বছর পরে হলেও কুলাউড়ার উন্নয়নের জোয়ারে তরী নামানোর নাবিক সুলতান মনসুর এবার হাল ধরেছেন।

কুলাউড়াবাসীর জোয়ারের তালে তালে আমিও মনে করছি, কুলাউড়ার উন্নয়নের স্বার্থে নিজের ইচ্ছা, স্বপ্নকে বলি দিতে হলেও সুলতান মনসুর আজ সব কিছুকে বলি দিয়ে দিন। কুলাউড়ার মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে উন্নয়নের হাল ধরুন। কে কি বললো, তাতে কি আসে যায়? অনেক তো নেতাদের দেখলাম যারা এমপি হয়ে নিজেদের পছন্দের লোক বাদে কুলাউড়ার বৃহৎ মানুষকে করেছেন উন্নয়ন বঞ্চিত। আপনি না হয় একটু ভিন্ন পরিধিতে তরী চালালেন। কুলাউড়ার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ক্ষুদ্র সুবিধাভোগীদের ত্যাগ করে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াবেন এমনটা প্রত্যাশা আপনার ক্ষেত্রে অবলিলায় করা যায়।

কুলাউড়ার মানুষ আপনাকে সর্বোচ্চ সম্মানের আসন দিয়ে অলঙ্কৃত করেছে। আপনাকে নিয়ে কুলাউড়ার মানুষ যে স্বপ্ন (উন্নয়ন) দেখছে তার কিঞ্চিত ব্যত্যয় ঘটলে আপনি হবেন কুলাউড়ার সব থেকে সমালোচিত। আমি জানি এটা (উন্নয়ন) আপনার একার পক্ষে সম্ভব না। আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন। কে সুবিধাভোগী, কে দালাল, কে তৈলবাজ, কে পল্টিবাজ, কে চাটুকার তা আপনি হাড়ে হাড়ে উপলব্দি করতে পারছেন। শুধু এদেরকে চিহ্নিত করে আপনার দূরদর্শী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে কুলাউড়ার কিছু স্বপ্ন-সারথী মানুষদের নিয়ে আপনি এগিয়ে যান। অবশ্যই উন্নয়ন সম্ভব।

কুলাউড়ার উন্নয়নের স্বার্থে আপনি যে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবেন, কুলাউড়াবাসী আপনার পাশে থাকবে। এটা আমার বিশ্বাস। ইতিমধ্যে আপনি এর প্রমাণ পেয়ে গেছেন। সারাদেশের বৈরী পরিবেশের মধ্যেও কুলাউড়াবাসী দল-মত নির্বিশেষে আপনার পাশে দাঁড়িয়েছে। জেল-ঝুলুম-হত্যার হুমকীকে তোয়াক্ষা না করে আপনার পাশে ছিলো কুলাউড়ার স্বাপ্নিক জনস্রোত। প্রতিপক্ষের হামলা-মামলা থেকে রক্ষা করতে রাতের পর রাত বনে-জঙ্গলে, হাওরে নির্ঘুম সময় কাটাতে হয়েছে তাঁদের। শুধুমাত্র আপনার গলে বিজয়ের মালা পড়ানোর জন্য মানুষের সেই আকুতি, সেই আকাংকাকে আপনি সম্মান করতেই হবে। আপনাকে কুলাউড়াবাসীর জন্য হাল ধরতেই হবে। তাই কুলাউড়ার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থে আপনাকে যদি ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জলাঞ্জলী দিতে হয় তবুও আপনি তা বিসর্জন দিয়ে দেন। এতে আপনি শুধু নামেই না কাজে উন্নয়নের সুলতান হিসেবে কুলাউড়ার ইতিহাসে আজীবন মানুষের অন্তরে থাকবেন। পরিশেষে কুলাউড়াবাসীর সাথে সুর মিলিয়ে বলছি, ‘৯৬ এর উন্নয়নের সুলতান, আবার মোরা দেখতে চাই।’

লেখক,
সাংবাদিক শাকির আহমদ
কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।