ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। রবিবার দুপুর সাড়ে ১১টায় ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কার কথা জানান বিএনপি সমর্থক সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ডাকসু নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বক্সের ব্যবস্থা নেই। স্বচ্ছ ব্যালট বক্সের বদলে সেখানে অস্বচ্ছ স্টিলের বক্স দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছতার সাথে করার জন্য স্টিলের বক্স থেকে স্বচ্ছ ব্যালট বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বচ্ছ ব্যালট বক্সের পরিবর্তে অস্বচ্ছ ব্যালট বক্সের ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ১৯৮৯-৯০ এবং ১৯৯০-৯১ এর নির্বাচনে ডাকসু নির্বাচনে হলের ভোট হলে গণনা করা হতো। আর কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট কেন্দ্রীয়ভাবে গণনা করা হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে একটি বুথ বসিয়ে সেখানে এ গণনা কাজ করা হতো। কিন্তু চলতি নির্বাচনে হলে হলে ভোট গণনা করা হবে। এতে করে ভোট কারচুপির আশঙ্কা থেকে যায়।

নির্বাচনী কমিটিগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮টি হল সংসদ নির্বাচনে হলের প্রশাসনে প্রশাসন সমর্থক শিক্ষক ছাড়া ভিন্নমতের কোন একজন প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর নেই। ফলে নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত নির্বাচন কমিশনে শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তির সুযোগ ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে এ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। গোটা জাতি প্রত্যাশা করে ডাকসু নির্বাচনে কর্তৃপক্ষ একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত গৌরব ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় এ নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে এ নিয়ে সকলের মনেই সংশয় ও উদ্বেগ রয়েছে।