ডাকসু নির্বাচনে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

নিউজ ডেস্ক:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাস এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এটি কার্যকর থাকবে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা লোকজন বৈধ পাস দেখিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সাতটি স্পটে থাকবে তল্লাশি চৌকি। এদিকে ভোটের দিন ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহে প্রতিটি গণমাধ্যমের জন্য সংবাদকর্মীর সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

ডাকসু নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়িয়েছে।

শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ডাকসু নির্বাচন-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী ও চিফ রিটার্নিং অফিসার ড. এস. এম. মাহফুজুর রহমান। ডাকসু নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবে ডিএমপি।

এদিকে, শনিবার শাহবাগ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে শাহবাগ, নীলক্ষেত, পলাশী মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং, রুমানা ক্রসিং, শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে ব্যারিকেড থাকবে। এসব পথে কেবল বৈধ পাসধারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। স্টিকারযুক্ত বৈধ মোটরসাইকেল ও গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার চারজন ও প্রিন্ট মিডিয়ার একজন ক্যামেরাম্যান ও দু’জন সাংবাদিক ডিউটি পাস সাপেক্ষে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। কোনো রকম দাহ্য পদার্থ বহন করা যাবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ তল্লাশির বাইরে থাকবে। তবে বকশীবাজার, চাঁনখারপুল হয়ে লোকজনকে মেডিকেলে যাওয়া-আসার জন্য বলা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ প্রস্তুত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলেই তারা দায়িত্ব পালন করবে। হলে হলে ভোটকেন্দ্র হবে। প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল বডি ও বিএনসিসি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারাদেশের মানুষের উৎসাহ-আগ্রহ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন করতে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, কেউ অনিয়ম করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গণতন্ত্রের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনের দিন কোনো রিকশা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। ভেতরে কিছু রিকশা থাকবে, সেগুলোতে চড়ে চলাচল করা যাবে।

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, নির্বাচনের দিন ঢাবি ক্যাম্পাসের মূল সড়ক, টিএসসি ও ভিসির বাসভবনের আশপাশে পুলিশ টহল দেবে। তবে পুলিশ সদস্যরা নিজ থেকে ভোটকেন্দ্র বা হলের ভেতরে যাবেন না। প্রশাসনের অনুরোধ সাপেক্ষে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা হবে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের মধ্যে যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ১০ মার্চের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বহিরাগতদের চলে যেতে হবে। ভোট দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।