‘পিএসজির ফল ক্ষমার অযোগ্য’

নিউজ ডেস্ক:  গত রাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে নিজের মাঠে ৩-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়েছে পিএসজি। হারের ধরনে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি দলটির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনহোস।

এমন অলৌকিক ঘটনা প্রতিদিন হয় না। আবার এটাও বলা যায়, এমন ঘটনার জন্যই চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতগুলো এমন সুন্দর, এত প্রাণবন্ত। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হারার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন বিদায়ের প্রহর গুনছিল, ঠিক এমন সময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন দলটার কোচ ওলে গুনার সুলশায়ার। ঠিক যেমন খেলোয়াড়ি দিনগুলোতে করতেন তিনি, শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে গোল করে দলকে নিশ্চিত পরাজয় বা ড্রয়ের হাত থেকে উদ্ধার করতেন। কাল করলেন কোচ হিসেবে। দ্বিতীয় লেগে পিএসজির মাঠ থেকে ৩-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয় এনে দলকে পরের রাউন্ডে তুললেন এই নরওয়েজীয়। চোটের কারণে মাঠের বাইরে থেকে থাকা নেইমারের শুধু অশ্রুসজল চোখে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না!

হতাশাজনক এই পরাজয়ে নিজের আক্ষেপ লুকাতে পারেননি নেইমারের জাতীয় দলের সতীর্থ, ব্রাজিল ডিফেন্ডার মার্কিনহোস। এমন হারের পর কোনো অজুহাত চলে না, এমনটা মনে করছেন তিনি, ‘যে রকম বাজে খেলেছি, তার কোনো ব্যাখ্যা চলে না। এমন ফলাফল ক্ষমার অযোগ্য। কীভাবে কী হলো, সে সম্পর্কে ভাবতে হবে, বিশ্লেষণ করতে হবে। এটা আমাদের জন্য সংকটময় এক মুহূর্ত।’
প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতলেও দ্বিতীয় লেগে গা-ছাড়া খেলা দেওয়ার কোনোই সুযোগ ছিল না। কেননা, চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট রাউন্ডের যেকোনো সময়েই যেকোনো কিছু হতে পারে। এই বোধটা মার্কিনহোসের এসেছে ম্যাচশেষে, ‘আমাদের উচিত ছিল মাঠে সর্বস্ব নিংড়ে দেওয়া। যদিও কি করা উচিত ছিল আর কি করা উচিত ছিল না এসব এখন এসব বলে লাভ নেই। আমার মনে হয় না এখন বেশি কথা বলার সময়। ব্রাজিলে একটা প্রবাদ আছে, নিজের মল নিজেই খাওয়ার সময় এসেছে। এখন আমাদের সেটি করার সময়। আমাদের জন্য খুবই জঘন্য সময় এটা, উন্নতির জন্য কাজ করা লাগবে আরও।’
মার্কিনহোসের আগে পিএসজি অধিনায়ক, আরেক ব্রাজিল ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দিতে এসে ক্লাবের সকল ভক্ত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
এই নিয়ে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিল পিএসজি। গত দুইবার বাদ পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার কাছে হেরে। ঘরোয়া লিগে দাপট দেখানো দলটা নেইমার, কাভানি, এমবাপ্পেদের নিয়েও ইউরোপে কিছু করতে পারছে না।